পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে মত পাল্টিয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার বলেছেন, মুসলমানরা জার্মানির একটি অংশ৷ বার্লিনে ইসলাম বিষয়ক সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন৷
এর আগে চলতি বছরের মার্চে জার্মানির নয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্স্ট সিহোফের বলেছিলেন, ইসলাম জার্মানির ধর্ম নয়। খ্রিস্ট ধর্মের ভিত্তিতে জার্মানি গড়ে উঠেছে। বিল্ড’ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ওই বক্তব্যের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। যেসব আশ্রয়প্রার্থী রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে তাদের অবিলম্বে সেদেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এ ধরনের আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা বলেন জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
হোর্স্ট সিহোফের হচ্ছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরীক দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন বা সিএসইউ’র অন্যতম প্রভাবশালী নেতা।
তবে বুধবার ‘জার্মান ইসলাম কনফারেন্স’ বা ডিআইকে-র উদ্বোধন করতে গিয়ে সেহোফার বলেন, এই দেশের অন্য নাগরিকদের মতো মুসলমানদেরও সমান অধিকার ও দায়িত্ব আছে৷ এ ব্যাপারে ‘কোনো যৌক্তিক সন্দেহ’ থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার৷
জার্মানির মসজিদগুলোকে বিদেশি অর্থ সহায়তার উপর নির্ভরতা কমানোরও আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ প্রার্থনা আয়োজন ও ইমামদের প্রশিক্ষণের খরচ নিজেদেরই জোগাড় করা উচিত বলে মনে করেন তিনি৷ এক্ষেত্রে মুসলমানদের জার্মান সমাজে একীভূত করতে সরকারের যেসব প্রকল্প আছে সেগুলোতে অর্থ সহায়তা বাড়ানো হবে বলেও জানান সেহোফার৷
উল্লেখ্য, জার্মানির বেশিরভাগ মসজিদ তুরস্ক কিংবা সৌদি আরবের মতো দেশের অর্থ সহায়তায় চলে৷ জার্মানির সবচেয়ে বড় ইসলামি সংস্থা ‘ডিটিব’ তুরস্ক সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে৷ এই সংস্থার অধীনে থাকা প্রায় ৯০০ মসজিদ পরিচালনা ও ইমামদের বেতন আসে তুরস্ক থেকে৷
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানিতে সমালোচনার মুখে পড়েছে ডিটিব৷ সে কারণে মসজিদগুলোর উপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ কমানোর বিষয়টি এখন আলোচিত হচ্ছে৷
জার্মান ইসলাম কনফারেন্স’ বা ডিআইকে-তে সাধারণত ইসলামি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিলেও এবার অন্যদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেহোফার৷ যেমন, সেরান আতেস ও আহমাদ মনসুর৷ এর মধ্যে আতেস বার্লিনে ইবনে রুশদ-গ্যোয়েটে মসজিদ নামে একটি উদারপন্থি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ আর মনসুর ধর্মীয় সহিংসতা নিয়ে নিয়মিত তাঁর মত প্রকাশ করে থাকেন৷ আতেস ও মনসুর দুজনই উদারপন্থি ঘরানার লোক হিসেবে পরিচিত৷


