ইসলামিক শিক্ষাকে দেশে শক্তিশালী করতে চাই : ব্রুনাই সুলতান

ইসলামিক শিক্ষাকে দেশে শক্তিশালী করতে চাই : ব্রুনাই সুলতান

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্রুনাই এর সুলতান হাসান আল-বলখাই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বলেছেন, আমি ইসলামিক শিক্ষাকে এই দেশে শক্তিশালী করতে চাই।

ব্রুনাই সরকার নতুন ইসলামি শরীয়া ভিত্তিক আইন করেছে। যেখানে বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা, সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্ক, ধর্ষণ এবং নবী মোহাম্মদকে অবমাননার মতো অপরাধের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। শরীয়াহ আদালতে রায় হলে অর্ধেক মাটিতে পুতে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়া চুরি ও ভ্রুন নষ্ট করার শাস্তি হিসেবে হাত কেটে নেয়ার বিধান থাকছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ আইন শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, ভ্রমণরত পর্যটকদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

ব্রুনাইয়ে চালু হওয়া বিতর্কিত শরীয়াহ আইনের কিছু দিক অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী মুসলমান শিশুদের ‘ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের শিক্ষা গ্রহণের’ জন্য ‘প্ররোচিত বা উৎসাহিত’ করাটাকে অপরাধমূলক দণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্রুনাই এর সুলতান হাসান আল-বলখাই বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আমি ইসলামিক শিক্ষাকে এই দেশে শক্তিশালী করতে চাই।

নতুন আইন অনুযায়ী সমলিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্কের শাস্তির জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর প্রয়োজন হবে। দেশটিতে আগেই সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে। বর্তমানে সমকামিতার জন্য শাস্তি রয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড। ব্রুনাই এর সমকামী গোষ্ঠী এমন ঘোষণায় হতাশ ও ভীত। তারা এমন শাস্তিকে ‘মধ্যযুগীয় শাস্তি’ বলে অভিহিত করেছে।

সুলতান শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্র ব্রুনাই বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ। তারা বিপুল পরিমান তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে থাকে। সুলতান এর বয়স বর্তমানে ৭২ বছর। যিনি ব্রুনাই এর বিনিয়োগ সংস্থার প্রধান। বিশ্বের কিছু শীর্ষ হোটেলের মালিক তিনি। যার মধ্যে রয়েছে লন্ডনের ডর্চেস্টার হোটেল ও লস অ্যাঞ্জেলসের বিবিয়ারলি হিলস হোটেল।

দেশটির এমন ঘোষণার পর হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনিসহ অনেক তারকা বিলাসবহুল এসব হোটেল বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ও আফ্রিকান স্টাডিজের বিল্ডিং ব্রুনাই গ্যালারির নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

মাত্র চার লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার এই দেশে মুসলমান রয়েছে দুই তৃতীয়াংশের মতো। ব্রুনেইতে মৃত্যুদণ্ড থাকলেও ১৯৫৭ সালের পর তা দণ্ড হিসেবে কার্যকর করা হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *