পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আকাশে মেঘ-বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে আতঙ্কে বিষখালী নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলার মানুষজন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হোসনাবাদ, বদনীখালী, কালিকাবাড়িসহ নিন্মাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে দমকা বাতাস বইছে। প্রকৃতি তার অন্ধকার রূপ ধারণ করেছে। রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। এসবের কারণে আতঙ্কে রয়েছে উপকূলীয় জনপদের এ উপজেলার মানুষ।
জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের (হিন্দু) পঞ্জিকানুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হয়ে আজ বুধবার বিকেল ৫ টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণিমা থাকবে। ইহা বুদ্ধ পূর্ণিমা নামে পরিচিত। পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদের আর্কষণে পৃথিবীতে পানি বেড়ে যায়। বেতাগী উপজেলার পশ্চিম দিকে বিষখালী নদী এবং পূর্বদিকে পায়রা নদী। মাঝ বরাবরে বেতাগী উপজেলা অবস্থিত। নেই কোনো শহর রক্ষা বাঁধ।
নদী সংলগ্ন এ উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বেতাগী পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নের জন্য ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য কোনা টেকসই রক্ষা বাঁধ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ উপকূলীয় জনপদের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। পৌরসভাসহ আশেপাশের কয়েক ইউনিয়নের গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ।
এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েছে দমকা বাতাস ও থেমে থেমে বৃষ্টি। এরই মধ্যে পায়রা এবং মংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এ অঞ্চলের অবস্থান পায়রা এবং মংলা সমুদ্রবন্দরের মধ্যখানে হওয়ায় এখানকার মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসকে ঘিরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিষখালী নদীর কোলঘেঁষে মানুষরা রয়েছে চরম আতঙ্কে।
বুধবারের ভরা পূর্ণিমা ও ইয়াসের কারণে বিষখালী নদীর জোয়ার আরো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। উপকূলীয় অঞ্চলের নড়বড়ে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর উত্তাল ঢেউয়ের পানি দেখে আতঙ্কে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ।


