উত্তপ্ত দিল্লি; লালকেল্লা দখল করে পতাকা উড়ালেন কৃষকরা

উত্তপ্ত দিল্লি; লালকেল্লা দখল করে পতাকা উড়ালেন কৃষকরা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কৃষি সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে আছে ভারতের দিল্লি। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে ঢুকতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন কৃষকরা। ‘নতুন বাজার বান্ধব’ সংস্কারের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কৃষক ট্রাক্টর চালিয়ে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কয়েকটি জায়গায় কৃষকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত রুটে না গিয়ে অন্যদিকে এগিয়ে যায়।

পুলিশের বাধা পেরিয়ে দুপুরের দিকে এক দল কৃষক ঢুকে পড়েন লালকেল্লা চত্বরে। পুরো চত্বর চলে যায় আন্দোলনকারীদের দখলে। চলতে থাকে স্লোগান। তারা পৌঁছে যান লালকেল্লায় জাতীয় পতাকার কাছাকাছি। গম্বুজের মাথায় জাতীয় পতাকা উড়ছিল। নীচে পোঁতা ছিল আরও একটি পাইপ। সেই পাইপ বেয়ে উঠে সংগঠনের পতাকা টাঙিয়ে দেন এক জন। লালকেল্লার গম্বুজের উপরেও উঠে পড়েন অনেকে।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষক-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্র সিংঘু সীমান্ত, টিকরি এবং গাজীপুর সীমান্ত। ট্রাক্টর উল্টে মারা গেছেন একজন। দিল্লির আইটিও এলাকায় কাঁদানে গ্যাসের শেলের হাত থেকে বাঁচতে নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্রাক্টর। তাতেই মৃত্যু হয়ছে একজনের। তবে তারা এখন লালকেল্লায় পৌঁছায় আন্দোলনরত কৃষকের একটা দল।

দিল্লি পুলিশের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, সকালের দিকে বেশি উত্তেজনার খবর মিলেছে টিকরি সীমান্তে। এর আগে ৩৭টি শর্ত আরোপ করে আন্দোলনরত কৃষকদের ট্রাক্টর র‍্যালি করার অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। ঘোষিত রুট দিয়ে দিল্লি ঢুকতে হবে, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হলে তবেই র‍্যালি বের করা যাবে। আর সেন্ট্রাল দিল্লিতে কোনো জমায়েত করা যাবে না। সেই শর্ত মেনেই কাল রাত আর এদিন সকাল থেকে ট্রাক্টর ঢুকতে শুরু করে দিল্লিতে।

এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি লালকেল্লায় এ ভাবে পতাকা উত্তোলনের সমালোচনা করেন অনেকেই। দিল্লির পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, ট্র্যাক্টর প্যারেডের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট রুট মানেননি কৃষকরা। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানানো হচ্ছে, কিন্তু তাঁরা কিছুতেই কর্ণপাত করছেন না। এটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নয়।

দিল্লি অবস্থা বিবেচনা করে রাহুল গান্ধী শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার আহ্বান জানান। তিনি টুইটে বলেছেন, ‘হিংসা কোনো সমাধান নয়। অবিলম্বে তিনটি কৃষি আইন বাতিল করুক কেন্দ্র।’

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *