পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর রাজশাহী জেলায় রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ হিল কাফি জানান, ২০২২ সালে রাজশাহী আম উৎপাদনের আগের বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।
২০২২ সালে অতিরিক্ত ৫৭২ হেক্টর জমি আম চাষের আওতায় আনার ফলে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্র এবার অন্য সব বছরের তুলনায় বেশি আম উৎপাদনের আশা করছে।
প্রতিটি আম গাছে মুকুল আসায় কৃষকরাও ২০২২ সালে বাম্পার ফলন নিয়ে আশাবাদী।
২০২০-২১ মৌসুমে জেলায় ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান ছিল। যেখানে প্রায় ২.১৭ লাখ মেট্রিক টন আমের ফলন হয়। যা বিক্রি করে চাষিদের আয় হয় ৮৬.৮৫ কোটি টাকা।
এর আগে, ২০১৯-২০ মৌসুমে ১৭ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমির আম বাগানে প্রায় ১.৮০ লাখ মেট্রিক টন আমের ফলন হয়েছিল এবং ৭১.৮ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছিল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর (২০২১-২২ মৌসুমে) ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।
“এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ১৫.৮৫ মেট্রিক টন। আমরা আশা করছি রাজশাহী জেলায় এবার আমের রেকর্ড-ভাঙা ফলন হবে কারণ চাষাবাদ বেড়েছে,” রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর আব্দুল আলিম বলেন।
তিনি আরও বলেন, “গত বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় মাটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখায় এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আম চাষের জন্য অনুকূল। অনেক কৃষক সবজি চাষের জমির পাশে আম চাষ করায় গাছগুলো যথেষ্ট পুষ্টি পেয়েছে।”
আশা প্রকাশ করে এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, “আগের বছরের তুলনায় আমের মুকুল কম থাকলেও চাষাবাদ বেড়ে যাওয়ায় আমরা রেকর্ড ফলন আশা করছি।”
মোট ২.৬৮ হেক্টর আম বাগানের মালিক চারঘাট এলাকার আম চাষি আবুল হোসেন বলেন, “গত বছর আমের ফলন ভালো হলেও কোভিড-১৯ লকডাউনের কারণে চাষিরা ভালো লাভ পাননি। তবে এ বছর ঈদ-উল-ফিতরের পরপরই পাকা আম বাজারে পৌঁছাবে যা আমাদের জন্য অধিক লাভজনক হতে পারে।”


