এই বৈরুতে, লড়াই করে বেঁচে থাকার মতো অনেক কিছুই এখানে আছে
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গতকাল লেবাননের বৈরুতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা ওমর ইসানী, যিনি স্থানীয় একটি ফ্যাশন হাউজ ফেব্রিক এইডের কর্ণধার। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঘরে ফিরে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা ও ধ্বংসস্তুপ থেকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা নিয়ে একটি পোস্ট লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম এর পাঠকদের জন্য ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন য. সামনূন।
গতকাল আমি অনেককিছু হারিয়েছি, আমার গাড়ি, আমার বাড়ি, আমার ফোন, আমাদের একটি দোকান। দোকানটি মাত্র তিন মাসেরও কম সময় আগে উদ্বোধন করা হয়েছিল, আমরা এই দোকানে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করেছি। হাজার হাজার ডলার জলের মত বিনিয়োগ করেছি। খোলার পর থেকে দোকানটি দুর্দান্তভাবে চলেছে। বৈরুতে ফ্যাশনের অন্যতম একটি ল্যান্ডমার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এটা। আর আজ, দোকানটা কেবলই একটা স্মৃতি মাত্র। কিছুই অবশিষ্ট নেই, সমস্ত কিছু এক সেকেন্ডে উধাও হয়ে গেল।
.
সবচেয়ে বড় কথা, গতকাল আমি আমার শহরটি হারিয়েছি, আমাদের অতিপরিচিত বৈরুতকে আমরা হারিয়েছি। আর্মেনিয়া সড়কে আমার কয়েকশো প্রতিবেশী ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে ছিল। রাস্তাটি বিস্ফোরণস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে। এ যেন সাক্ষাৎ কেয়ামত। ‘তারা’ যা বলে (মৃতের সংখ্যা নিয়ে সরকারী বক্তব্য) বিশ্বাস করবেন না, শত শত মানু্ষ এখনো নিখোঁজ।
.
আমার বন্ধু এবং সহকর্মী স্যালি খাদরার সাথে আমি দোকানে ছিলাম। স্যালি, সে নিঃসন্দেহে আমার দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে ভদ্র এবং প্রাণোচ্ছল মানুষ। সবচেয়ে কঠিন সময়ে, সে হাসছিলো আর কৌতুক বলছিলো। সেই মুহুর্তে আমার দোকানে থাকার কথা ছিল না, কিন্তু স্যালি, আমি খুব আনন্দিত যে আমি তোমার পাশে থাকতে পেরেছিলাম। এখন দোকানের ছবি দেখে আমি একদম হতভম্ব যে, আমরা কিভাবে এই অবস্থার ভেতর থেকে বেঁচে ফিরতে পেরেছি! আমরা অসম্ভব ভাগ্যবান।
আমার এবং স্যালির পরিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পেতে আমাদের শেষ পর্যন্ত চারটি হাসপাতাল, ভালবাসায় পূর্ণ একটি বাসা এবং একটি ফার্মাসিতে ঘুরতে হয়েছিল। মাউন্ট লেবানন হাসপাতালের ডাক্তার ‘হিবা হজ্জ’ এর প্রতি অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি কয়েকঘন্টা ব্যয় করে আমার ক্ষত সেলাই করেছেন। (কমপক্ষে ১০০টি সেলাই লেগেছে)। ডাক্তার হিবা প্যারিসে তিন বছর পড়াশোনা শেষে সবেমাত্র লেবাননে ফিরে এসেছেন। হাসপাতালের সাথে তার চুক্তিটি এখনও স্বাক্ষরিত হয়নি, আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এখনও দায়িত্বে নিযুক্ত হননি, কিন্তু বিস্ফোরণের পর তিনি নিজে অগ্রসর হয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে যোগ দিয়েছেন।
ফায়াদিয়েহ এলাকার স্থানীয় ফার্মেসীকর্তা জাসলিনের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা, যিনি দুই ঘন্টা ব্যয় করে আমার পিঠ ও মাথার পেছন থেকে কাঁচের টুকরো বের করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী সেই নাম না জানা ভদ্রলোকের প্রতি অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাই, যিনি আমাদেরকে জিতাভি এলাকা থেকে তাঁর মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন সেন্ট জর্জ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে। অসংখ্য অগুণতি কৃতজ্ঞতা জানাই কসসাইফিদের পুরো পরিবার, হুসাম হানোওনী এবং যাদ বাচার প্রতি, যারা সীমাহীন দয়াদ্র ও যত্নশীল ছিলেন।
যাদের কথা উল্লেখ করলাম, তাদের মতো লোকের জন্য আমাদের জীবনের লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত। এই বৈরুত শহরে অফুরান ভালবাসা, করুণা ও মমতা – লড়াই করে বেঁচে থাকার মতো অনেক কিছুই এখানে আছে।
আমার জন্য আজকের দিনটি একটি সাধারণ কার্যদিবস, অনেক কিছুই করার বাকী। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার এবং পুনর্নির্মাণ, উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায়।