এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই : প্রধান উপদেষ্টা

এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই : প্রধান উপদেষ্টা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে যার নেতৃত্বে নৃশংস একটি গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। শেখ হাসিনা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র এবং একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এখন বাংলাদেশকে পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব আমাদের। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।

গতকাল ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের একমাস পূর্তি উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে এ বার্তা পাঠানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, আজ আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা জঘন্য হত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আমি এই বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
তিনি আরো বলেন, আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও, যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন। আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সব জানা-অজানা শহীদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছি আমি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ : এদিকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। আইএসপিআর জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা শিখা অনির্বাণে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান তাকে স্বাগত জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান উপদেষ্টা শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে তার মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করেন।

শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তার নিজ কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস পালন করেন। প্রধান উপদেষ্টা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আগমন করলে তাকে অভ্যর্থনা জানান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং মহাপরিচালকরা। এরপর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) আব্দুল হাফিজ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি অফিসে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক জানায়, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক-সামগ্রী থেকে সৃষ্ট পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এর ব্যবহার বন্ধ করতে সব সরকারি অফিসে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের বিকল্প পণ্যসামগ্রী ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্লাস্টিকের ফাইল- ফোল্ডারের পরিবর্তে কাগজ বা পরিবেশবান্ধব অন্যান্য সামগ্রীর তৈরি ফাইল ও ফোল্ডার ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে কটন বা জুট ফেব্রিকের ব্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্লাস্টিকের পানির বোতলের পরিবর্তে কাচের বোতল ও কাচের গ্লাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যানারের পরিবর্তে কটন ফেব্রিক, জুট ফেব্রিক বা বায়োডিগ্রেডেবল উপাদানে তৈরি ব্যানার ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। দাওয়াত পত্র, ভিজিটিং কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের প্রচারপত্রে প্লাস্টিকের লেমিনেটেড পরিহার করতে বলা হয়েছে।

বিভিন্ন সভা বা সেমিনারে সররাহকৃত খাবারের প্যাকেট যেন কাগজের তৈরি ও পরিবেশবান্ধব হয়, সেটি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের প্লেট, গ্লাস, কাপ, স্ট্র, কাটলারিসহ সবধরনের পণ্য পরিহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্লাস্টিকের কলমের বদলে পেনসিল কাগজের কলম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বার্ষিক প্রতিবেদনসহ সবধরনের প্রকাশনায় লেমিনেটেড মোড়ক ও প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিহার করা এবং ফুলের তোড়ায় প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়।

বর্ণিত বিষয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং আওতাধীন দফতর বা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য সব সিনিয়র সচিব বা সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

অপর দিকে প্লাস্টিক-দূষণে সচেতনতা তৈরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয়কে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক-মুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৫ আগস্ট জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উল্লেখ্য, ২৮ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৭ ধরনের বস্তু, সামগ্রী, পদার্থকে ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট জারি করা এক অফিস আদেশে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দফতর ও সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিগত ও দাফতরিক পর্যায়ে ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা’ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Related Articles