ঐতিহাসিক নাকবা দিবসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলের হামলা, নিহত অন্তত ১১৫

ঐতিহাসিক নাকবা দিবসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলের হামলা, নিহত অন্তত ১১৫

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১৯৪৮ সালে মাতৃভূমি হারানোর দিন হিসেবে ১৫ মে নাকবা বা মহাবিপর্যয় দিবস পালন করেন ফিলিস্তিনিরা। আর এই দিবসেই গাজার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ১১৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। হামলার কারণে অন্তত তিনটি হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ভোররাতে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৬১ জন নিহত হন। আর উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়ায় আল–তাওবাহ চিকিৎসাকেন্দ্রে বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলার কারণে জাবালিয়ার আল–আওদা হাসপাতাল, খান ইউনিসের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল এবং ইউরোপীয়ান হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

গাজার দেইর এল বালাহ এলাকা থেকে আল–জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আল আজৌম বলেন, ‘গাজাবাসীর জন্য এটি ছিল আরেকটি রক্তাক্ত দিন। আবাসিক এলাকায় পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুধু খান ইউনিসেই নয়টি বাড়িতে সরাসরি হামলা হয়েছে।’

এদিকে এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইসরায়েলি বাহিনীর আচরণকে ‘মরিয়া ও আগ্রাসী’ বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়, যাতে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ১৩৯ জন এবং ২০০-এর বেশি মানুষকে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরদিন থেকেই গাজায় লাগাতার বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫৩ হাজার ১০ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জন।

তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের দাবি, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ থাকা বহু মানুষকে মৃত ধরে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।

Related Articles