পাথেয় রিপোর্ট : ওয়াজাহাতী জোড়ে তাবলীগী শূরার ১১ সদস্যের কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। তাদের কেউ ওয়াজাহাতী জোড়ে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতাও করেননি। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারিত বক্তৃতায় তাদের কারও নামও আসেনি। মূলত তাবলীগী জোড়ে কখনোই নাম প্রচার দিয়ে বক্তৃতা করা হয় না। সে ধারার আলোকে এ জোড়ও অনুষ্ঠিত হয়নি।
জোড়ে একটি লিফলেটও বিতরণ করা হয়। যা জোড়ের আগেই ছাপা হয়েছে ফকিরেরপুলের একটি প্রেস থেকে। একজন পুস্তক ব্যবসায়ী এই ছাপাকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালেই রাজধানীর মুহাম্মদপুর কবরস্তান মাঠে শুরু হয় তাবলীগ জামাতের নামে ওয়াজাহাতী জোড়। এতে তাবলীগের সাথী, আলেম উলামা ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
নিম্নে ওয়াজাহাতী জোড়ে প্রচারিত লিফলেট তুলে দেয়া হলো-
জোড়ে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারি মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফি। শনিবার (২৮ জুলাই) সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া জোড়ে ছয়টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
১. জমহুর উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন, তিনটি মৌলিক কারণে— (ক) কোরআন ও হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা, (খ) তাবলিগের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তাবলিগ ব্যতীত দ্বীনের অন্যান্য মেহনতকে— যথা দ্বীনি শিক্ষা ও তাসাউফ ইত্যাদিকে হেয়প্রতিপন্ন করা, (গ) পূর্ববর্তী তিন হজরতজি (হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহ., হজরত মাওলানা ইউসুফ রহ. ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ.) এর উসুল ও কর্মপন্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ।
২. মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ. এর রেখে যাওয়া শুরায়ী নেযামকে উপক্ষো করে নিজেই নিজেকে আমীর দাবি করেছেন; যা শরিয়ত বিরোধী। তাই তার কোনোরূপ সিদ্ধান্ত-ফায়সালা বা নির্দেশ কাকরাইল তথা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত করা যাবে না।
৩. দারুল উলুম দেওবন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শ থেকে সরে গিয়ে নতুন কোনো ফেরকা গঠনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কোনো জামাত বা ব্যক্তিকে নেযামুদ্দিনে পাঠানো বা যাওয়া মুনাসিব হবে না। অনুরূপভাবে নেযামুদ্দিন থেকে আগত কোনো জামাতকে বাংলাদেশের কোনো জেলায়/থানায়/ইউনিয়নে কাজ করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
৪. হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহ., হজরত মাওলানা ইউসুফ রহ. ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ. এর বাতানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ সারা দুনিয়াতে সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছে। তাই বাংলাদেশের তাবলিগের কাজ পূর্ববর্তী এই তিন হজরতের পদ্ধতিতে এবং উলামায়ে কেরামের তত্ত¡াবধানে পরিচালিত হবে। নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা যাবে না। কাকরাইল, টঙ্গী ময়দান এবং জেলা মারকাযসহ সকল মারকায এই নীতিতেই পরিচালিত হবে।
৫. কাকরাইল মসজিদের যে সমস্ত শুরা সদস্য আমরণ মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবের ভ্রান্ত আকিদা অনুসরণের হলফনামা করেছেন— যা শরিয়ত পরিপন্থি— তারা শুরার সদস্য থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। অতএব, তাদেরকে তাবলিগের কাজে শুরা ও ফায়সাল না রাখার আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
৬. ২০১৮-এর টঙ্গী ইজতেমায় সরকারের সাথে পরামর্শক্রমে আগামী ২০১৯-এর টঙ্গী ইজতেমার জন্য নির্ধারিত তারিখ— প্রথম পর্ব ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় পর্ব ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি এর সাথে আজকের মজমা ঐকমত্য পোষণ করছে।
উল্লেখ্য যে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ ছয় সিদ্ধান্ত আগে গৃহীত হয় এবং তা ছাপার কাজও সম্পন্ন হয়। যা চলমান তাবলীগের উসূলের খেলাফও বটে।



