পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অবশেষে গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৫২ শতাংশ, যা গত ১১ বছর তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৯.১০ শতাংশে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাধারণত প্রতি মাসের মূল্যস্ফীতি পরের মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রকাশ করে। কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস।
যদিও গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেছিলেন, ‘আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৫২ শতাংশ। তবে তা কিছুটা কমে সেপ্টেম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে ৯.১০ শতাংশে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে মূল্যস্ফীতি আবার কমে যাবে।’
একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। তবে এখন মূল্যস্ফীতি কমতির দিকে। সামনে তা আরো কমবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে এখন বাজারে চালের দাম কমছে। মানুষ না খেয়ে নেই। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হচ্ছে। খুব বড় দুর্ঘটনা না ঘটলে আশা করি আমাদের মূল্যস্ফীতি সামনের দিনগুলোতে আরো কমবে।’
বিবিএসের পরিসংখ্যান বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.০৩ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯.১৮ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯.৮৭ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বর মাসে শহরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৬৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮.৪২ শতাংশ।
এ ছাড়া গ্রামে আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৯.৭০ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৯৫ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯.৯৮ শতাংশ। গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪৮ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৯.১৮ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘বিশ্বে অন্যান্য বড় বড় অর্থনীতির দেশও মূল্যস্ফীতির শিকার। যেমন—আমেরিকার মতো দেশেও ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালে ১৩ শতাংশ হতে পারে বলেও আগাম ধারণা দেওয়া হয়েছে ওই দেশে। সে তুলনায় আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন পর্যন্ত খুবই সন্তোষজনক। আশা রাখি সামনের দিনে পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে।’


