কর্মস্থলে ফিরতে মরিয়া, ঢাকামুখী মানুষের ভিড় চরমে
পাথেয় টোয়োন্টিফোর ডটকম : ভিড় ঠেলেই রাজধানীতে ঢুকছে মানুষ। প্রচণ্ড ভিড় স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডগুলোতে। শুক্রবারের পর শনিবার এবং অফিস খোলার দিন রোববারও এ ভিড় দেখা গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে এখন কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধে দক্ষিণের লাখো মানুষ। যাত্রীচাপ এতটাই যে, ঈদের ৫ দিন পর নৌপথে ঢাকামুখী ‘স্পেশাল সার্ভিস’ চালু করতে বাধ্য হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। ঈদের পরদিন থেকে প্রতিদিন ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় থাকলেও শুক্রবার ছিল উপচেপড়া ভিড়। শনিবারও ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভিড় সামলাতে এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নিয়মিত ৬টি লঞ্চের পাশাপাশি স্পেশাল সার্ভিসে আরও ৯টি লঞ্চ চলার অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারপরও প্রতিটি লঞ্চে ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ঈদুল আজহায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেশি সংখ্যক মানুষ গ্রামে আসেনি। যারা এসেছিলেন তারা ঈদের পরদিনই কর্মস্থলে ছুটতে শুরু করেন। বরিশাল নদীবন্দর থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬টি লঞ্চ টইটুম্বুর যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ১৫টি বিশালাকার নৌযান।
শুক্রবার নিয়মিত সার্ভিসের ৬টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এগুলো হল- দিবা সার্ভিসের এমভি গ্রিনলাইন-৩, নৈশ সার্ভিসের এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯, এমভি কুয়াকাটা-২, এমভি পারাবত-১১, এমভি সুন্দরবন-১১ এবং এমভি সুরভী-৯। এছাড়া স্পেশাল সার্ভিসে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ৯টি বিশালাকৃতির লঞ্চ। এগুলো হল- এমভি পারাবত-৯, এমভি মানামী, এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১, সুরভী-৮, এমভি সপ্তবর্ণা-১০, এমভি কীর্তনখোলা-১০, এমভি রেডসান-৫, এমভি রাজহংস-১০ এবং এমভি ডায়মন্ড-৩।
সব লঞ্চেই উপচে পড়া ভির দেখা গেছে। কোনো লঞ্চে পা ফেলার মতো ফাঁকা জায়গা ছিল না। স্বাস্থ্যবিধি ছিল শুধুই কাগজে-কলমে। মাস্কবিহীন অনেক যাত্রী দেখা গেছে। লঞ্চগুলোয় জীবাণুনাশকসহ সুরক্ষা সামগ্রী ছিল নামমাত্র। শারীরিক দূরত্ব মানেননি যাত্রীরা। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় লঞ্চ কোম্পানিগুলোর তৎপরতাও ছিল লোক দেখানো। যদিও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় বরিশাল নদীবন্দরে কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হুদা জানান, ঢাকামুখী লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সব লঞ্চ নদীবন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকামুখী ভায়া লঞ্চগুলোকে বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করতে দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় যাত্রী এবং লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে কড়া সতর্কবার্তা দেয়া হয়ছে।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, ঈদের পর বরিশাল নদীবন্দরে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত নামে। এ কারনে শৃঙ্খলা এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নিয়মিত ৬টি লঞ্চের পাশাপাশি স্পেশাল সার্ভিসে চলার জন্য ৯টি লঞ্চকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রতিটি লঞ্চ নির্ধারিত সময়ের আগে বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ কারণে লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিতে পারছে না।


