পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো নন-স্টেট অ্যাক্টর বা রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গ্রুপকে কাজ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চরমপন্থা ও রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক সংহতি প্রয়োজন।
বাহরাইনের মানামায় গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ২১তম আইআইএসএস মানামা সংলাপে ‘রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তি এবং প্রভাব : আঞ্চলিক এবং আন্তদেশীয় চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ক বিশেষ অধিবেশনে রাখা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা চরমপন্থীদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেয়া, শক্তিশালী সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর আর্থিক তদারকির আহ্বান জানান।
তৌহিদ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গ্রুপগুলো মৌলবাদী এজেন্ডাগুলোকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সীমান্ত, অবৈধ বাণিজ্য, বাস্তুচ্যুতি এবং ডিজিটাল স্পেসকে কাজে লাগায়। এ জন্য সরকার, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সহযোগিতার ওপর জোর দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষ, সম্প্রদায় এবং আমাদের তরুণদের মনে চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই জয়ী হবে।
দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমারের সামরিক ও রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ১৩ লাখেরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য তৎপর হতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা এই বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে শোষণের ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ইইউ-ন্যাটোসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রতিনিধিরা অধিবেশনে অংশ নেন। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সারোয়ার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম এশিয়া) হুমায়ুন কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


