কোয়ারেন্টিনে কঠোর হচ্ছে সরকার

কোয়ারেন্টিনে কঠোর হচ্ছে সরকার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাস সংক্রমণ যাতে ঊর্ধ্বমুখী হতে না পারে সে জন্য বিদেশফেরত যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার সনদ দেখানো ও কোয়ারেন্টিনে থাকা বাধ্যতামূলক করার ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ।

দেশ থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার সনদ নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় বিদেশফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে সরকার।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে হওয়া আন্ত মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে বিদেশফেরত কয়েকজনের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসায় তাঁদের বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী একজন যাত্রীর কাছে পরীক্ষার ভুয়া সনদ পাওয়ায় তাঁকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. শাহলীনা ফেরদৌস বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এ অবস্থায় আবারও বিদেশফেরত যাত্রীদের মাধ্যমে দেশে যাতে করে সংক্রমণ বেড়ে না যায় সেদিকে আমরা সতর্ক রয়েছি। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আমরা এভাবে সতর্ক রয়েছি। এর আগে একাধিক দেশ বাংলাদেশি যাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ায় আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

ওই পরিচালক বলেন, বিদেশ থেকে যেকোনো পথেই দেশে আসা যাত্রীদের কাছে যদি করোনা নেগেটিভ সনদ থাকে তাঁদের বিমানবন্দর থেকে বাসায় গিয়ে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাঁদের মনিটরিং করা হয়। আর যাঁদের কাছে কোনো সনদ থাকে না তাঁদের বিমানবন্দর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের রেখে পরীক্ষা করে যদি রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার শর্তে। আর তাঁদের যদি পজিটিভ রিপোর্ট আসে তাহলে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে আবুধাবিসহ একাধিক জায়গা থেকে বিমানযোগে ঢাকায় আসা প্রায় ২৫ জন যাত্রীকে পরীক্ষা করে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ায় তাঁদের কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে বিদেশগামী একজন যাত্রী ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় করোনা পরীক্ষার সনদ দেখতে চাইলে তিনি যেটি দেখান তার সঙ্গে সার্ভারে থাকা সনদের মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ওই যাত্রীকে আটকে সনদ পরীক্ষা করে দেখা যায় সেটি ভুয়া। ওই যাত্রীকে পরে বিমানবন্দরের দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ ওই যাত্রীকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে দিয়ে আসে।

এ বিষয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘আমরা এখন থেকে এমন করেই কঠোর কিছু পদক্ষেপ নিব। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষ নানাভাবে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে করোনা সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক শিক্ষিত মানুষকেও বুঝিয়ে সচেতন করা যাচ্ছে না।’

তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিদেশ থেকে যখন যাত্রীরা বিমানে উঠছেন তখন তাঁরা সনদ ছাড়া কিভাবে উঠছেন সেটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। সরকারি ও বেসরকারি বিমান কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যেকোনো দেশ থেকে যাত্রী বিমানে তোলার আগে তাঁদের দেখা উচিত ওই যাত্রীর কাছে করোনা নেগেটিভ সনদ আছে কি না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বন্দর হয়ে মোট পাঁচ হাজার ৩১৬ জন যাত্রী দেশে ঢুকেছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো দিয়ে দেশে এসেছেন সর্বোচ্চ চার হাজার ৪৩৭ জন। স্থলবন্দরগুলো হয়ে ৫৬৮ জন ও সমুদ্রবন্দর হয়ে ৩১১ জন এসেছেন। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ৪৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে এবং ১৮১ জনকে আইসোলেশনে দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক শাহলীনা ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা এখন প্রতিটি এলাকায় আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছি। যাঁরাই বিদেশ থেকে প্রবেশ করছেন তাঁরা যেখানেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকুন না কেন, প্রবেশকালে বন্দরের দেওয়া ঠিকানা সংগ্রহ করে আমরা সেটা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। তাঁরা সেটি মনিটরিং করছেন।’

এ ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেরই পাসপোর্টের ঠিকানা এখন আর মিলছে না। হয়তো পাসপোর্টে যখন স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা যা দেওয়া হয়েছিল সেই ঠিকানায় অনেকেই থাকছেন না কিংবা বিদেশ থেকে এসে অন্য কোথাও উঠছেন। ফলে তাঁদের খুঁজে বের করা কিছুটা কঠিন হচ্ছে। এ ছাড়া অনেকে মোবাইল ফোন নম্বরও সঠিকভাবে নিচ্ছেন না, অনেকে কাগজে যে নম্বর দেন পরে হয়তো সেটি বন্ধ করে রাখছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *