পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অব্যাহত করোনা মহামারি ও স্বৈরতন্ত্রের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে বিশ্বে আবারও মান কমেছে গণতন্ত্রের। আর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪৫ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ বাস করছে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেও সূচকে এক ঘর এগিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ কথা জানিয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, ২০২০ সালের হিসাব অনুসারে বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেকেরও কম কোনো গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছিল। এবার এই সূচক আরো নিচে নেমেছে।
বৈশ্বিক চিত্র নৈরাশ্যজনক হলেও গণতন্ত্র সূচকে আগের চেয়ে এক ঘর এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২০ সালের সূচকে ৭৬তম স্থানে থাকলেও ২০২১ সালে ১০-এর মধ্যে ৫.৯৯ নম্বর নিয়ে তিউনিশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ৭৫তম স্থান অধিকার করেছে।
ইআইইউ আরো জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে যে করোনা মহামারির চাপ ও স্বৈরতন্ত্রের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির মতো ধারাবাহিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, সেটির ওপরই আলোকপাত করছে তাদের বার্ষিক গণতন্ত্র সূচক।
গবেষণা সংস্থাটি নিজেদের বার্ষিক সূচকে বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক অবস্থার একটি ছবি তুলে ধরে। ২০১০ সালের পর এবার নিজেদের সূচকের সর্বোচ্চ পতন নথিবদ্ধ করেছে তারা।
ইউরোপে স্পেনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র’-এর কাতারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির বিচারিক স্বাধীনতার নম্বর কমে যাওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ইআইইউ জানিয়েছে, দলীয় তহবিল সংগ্রহ বিতর্ক ও ধারাবাহিক কেলেঙ্কারির মুখে র্যাংকিং কমেছে যুক্তরাজ্যেরও। তবে দেশটি এখনো ‘পূর্ণ গণতন্ত্র’ ধরে রেখেছে।
গোটা বিশ্বে অর্ধেকেরও কম—মোট বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ৪৫.৭ শতাংশ বর্তমানে কোনো না কোনো ধরনের গণতন্ত্রে বাস করছে। ২০২০ সালেও এটি ছিল ৫০ শতাংশের কম ৪৯.৪ শতাংশ।
অন্যদিকে বিশ্ব জনংসংখ্যার মাত্র ৬.৪ শতাংশ বাস করছে ‘পরিপূর্ণ গণতন্ত্রে’। চিলি ও স্পেনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের’ কাতারে নামিয়ে আনার পর এ হিসাব এসেছে। ইআইইউয়ের তথ্য অনুসারে, বিশ্ব জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বাস করে স্বৈরতন্ত্রে। এর বড় অংশই বাস করছে চীনে। সংস্থাটি বলেছে, ‘চীন সম্পদশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আর গণতান্ত্রিক হয়নি। উল্টোটা হয়েছে, দেশটিতে স্বাধীনতা কমেছে। ’
গণতন্ত্র সূচকের শীর্ষ তিনে রয়েছে নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড। আর শেষ তিনে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান। তিউনিশিয়া ছাড়াও সামরিক অভ্যুত্থান ও তালেবান নিয়ন্ত্রণের কারণে মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের সূচকে বড় মাপের পতন হয়েছে।


