গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ১, চলছে চিরুনী অভিযান

গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার আরও ১, চলছে চিরুনী অভিযান

পাথেয় রিপোর্ট : নোয়াখালীর রামগতি উপজেলার আজাদনগর এলাকায় সুবর্ণচরে ভোট দেওয়া সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় হওয়া মামলায় পুলিশ আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা যায়।

১ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামগতি উপজেলার আজাদনগর এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি স্বপনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান।

এরআগে এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর সোমবার রাতে ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ বাদশা আলম নামে একজনকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হলো।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত রাতে স্বপন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হলো। বাকিদের ধরতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

মামলায় নির্যাতনের শিকার ওই নারীর স্বামী অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রীকে পাংখার বাজার ১৪ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষে ভোট দিতে দেখে হুমকি দেয়। পরে রাত ১২টায় কয়েকজন লোক পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। আমি দরজা খুলে দেখি, স্থানীয় সন্ত্রাসী মোশারেফ, সালাউদ্দিন, সোহেল, হেঞ্জু মাঝি, বেচু, আবুল কালামের ছেলে সোহেল, জসীম, আবু, স্বপন, আনোয়ার, বাদশা আলম, হানিফ, সর্ব সাং মধ্যম বাগ্যা, আমির হোসেনসহ ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী দাঁড়িয়ে আছে। তারা আমাকে বেঁধে ফেলে। সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য গালাগালি করে এবং আমার ছেলেমেয়েকেও বেঁধে ফেলে। আমার স্ত্রীকে অস্ত্র দেখিয়ে জোর করে ঘরের বাইরে নিয়ে যায় এবং সবাই মিলে ধর্ষণ ও বেদম মারধর করে। আমাকে ও আমাদের সন্তানদেরও মারধর করে আহত করে। সন্ত্রাসীদের চিনে ফেলায় তারা আমার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যারও চেষ্টা করে। তবে সন্ত্রাসীদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে তার জীবন ভিক্ষা চাই। ভোর ৪টার দিকে আমার স্ত্রীকে বাড়ির উঠানে ফেলে চেলে যায়। সকালে আমি আমার স্ত্রীকে প্রতিবেশীদের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী রহুল আমিন মেম্বার ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বা সাংবাদিকদের জানালে আমাকে ও তার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সোমবার দুপুর ১টার দিকে ভর্তি করা হয়।

এদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করার কথা জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ১ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তদন্ত করার কথা জানান।

এছাড়া ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাম ছাত্র ঐক্য জোটের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার এক বিবৃতি দিয়েছে বেসরকারি সংগঠন নারীপক্ষ। সংগঠনটির আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তারা দাবি জানান, অনতিবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে ধর্ষণকারী প্রত্যেককে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর একটিও ধর্ষণ বা সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সেই দাবিও জানানো হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *