পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : গাজার সাংবাদিকদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিত্রিত করার জন্য বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে ইসরাইল। তেলআবিবভিত্তিক ম্যাগাজিন +৯৭২-এর এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘লেজিটিমাইসেশন সেল’ নামে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য গাজার এমন সাংবাদিকদের খুঁজে বের করা যাদের হামাস বা অন্যান্য সংগঠনের সাথে যুক্ত করে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব। সূত্র : মিডলইস্ট আই।
তিনটি ইসরাইলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ম্যাগাজিনটি জানায়, এই ইউনিটের লক্ষ্য ছিল জনসংযোগ; নিরাপত্তা নয়। সমালোচনা তীব্র হলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এর কাজ, যা নিয়মিতভাবে সরাসরি মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হতো। খবরে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত একটি ক্ষেত্রে এই ইউনিট ভুলভাবে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করে এক সাংবাদিককে হামাসের সামরিক শাখার সদস্য হিসেবে মিথ্যা চিত্রিত করেছে। আলজাজিরার সাংবাদিক আনাস আশ-শরিফ ও ইসমাইল আল-গৌলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গাজার আবাসিক এলাকায় তীব্র ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইল : তিন দিনের মধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্বে জেইতুন পাড়ায় ৩০০টিরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞ হাতেম করিম আল-ফালাহির মতে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে দখলদার বাহিনী এই কৌশল ব্যবহার করছে, যার উদ্দেশ্য- ১. প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও তাদের অবকাঠামো দুর্বল করা। ২. জনসংখ্যাগত ও ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটিয়ে এলাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটানো। ৩. নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। ৪. প্রতিরোধের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ছাড় আদায় বা তাদের সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করা।
আলজাজিরাকে এই সামরিক বিশেষজ্ঞ জানান, গাজার কিছু এলাকা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনর্গঠনকে দীর্ঘমেয়াদে জটিল করবে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মেজর মাহমুদ বাসাল জানান, ইসরাইলি সেনারা উচ্চ-বিস্ফোরক বোমা ব্যবহার করছে যাতে লক্ষ্যবস্তুসহ আশপাশের এলাকাও ধ্বংস হয়। আল-ফালাহি সতর্ক করেছেন, গাজা শহর দখল করা ইসরাইলের জন্য কঠিন হবে ঘন শহুরে পরিবেশ ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের গতিশীলতার কারণে। ইসরাইলি চিফ অব স্টাফের মতে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলতে পারে। গত সপ্তাহে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
ইসরাইলের বিতর্কিত সহায়তাব্যবস্থা গাজার দুর্ভিক্ষ বাড়াচ্ছে
গাজার মানবিক সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় চলমান চরম দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ইসরাইলের মানবিক সহায়তা অবরোধ। গত মার্চ থেকে টানা ১১ সপ্তাহ ইসরাইল গাজায় সবধরনের সহায়তা প্রবেশে পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল হামাসের কাছ থেকে বন্দিমুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করা। তবে মে মাস থেকে অল্প পরিমাণ খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ঢুকতে দিলেও তা ক্ষুধার তীব্রতা কমাতে পারেনি। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ইসরাইল এরপর একটি বিতর্কিত সহায়তা সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করে, যা ইসরাইল-সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) পরিচালনা করছে। ইসরাইলের দাবি, এই নতুন বিতরণ পদ্ধতি হামাসের হাতে সহায়তা পৌঁছানো ঠেকাচ্ছে। তবে মার্কিন সংস্থা ইউএসএইড গত মাসে প্রকাশিত বিশ্লেষণে জানায়, হামাসের মাধ্যমে বৃহৎ আকারে সহায়তা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে মরিয়া ফিলিস্তিনি জনগণের ভিড়ে প্রায়ই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাবে, ২০২৫ সালের ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন সহায়তা সংগ্রহের সময়, যাদের বেশির ভাগ জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছাকাছি নিহত হন। বাকি অনেককে সহায়তা বহ
গাজা থেকে ফিরিয়ে দেয়া ত্রাণ পড়ে আছে গুদামে, রাস্তার পাশে
গাজায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ত্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরাইল। ত্রাণগুলো ফিরিয়ে দেয়ার পর, সেগুলো বহনকারী ট্রাক এখন পড়ে আছে মিসরের সীমান্ত থেকে কয়েক মিটার দূরে রাস্তায়। ত্রাণ সহায়তার বাক্সগুলো ট্রাক থেকে নামানো হয়নি। হতাশ চালক ও জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তারা খাদ্য ও ওষুধ গাজায় না পাঠানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সাত সহায়তা কর্মকর্তা ও তিন ট্রাকচালক রয়টার্সের সাথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেন। যেমন : প্যাকেজিং বা কাগজপত্রের সামান্য ত্রুটির কারণে চালান ফেরত দেয়া হয়। এ ছাড়া পণ্যের সামরিক ব্যবহার হতে পারে এমন সন্দেহে অতিরিক্ত তল্লাশি এবং ইসরাইলি সীমান্তে কম সময় কাজ করার মতো বিষয়ের কারণেও ত্রাণ ফেরত দেয়া হয়।
সোমবার রয়টার্স যে আটকে থাকা ট্রাক ও ট্রেলার দেখেছে, তা মিসরের রাফাহ সীমান্তের বাইরে ছিল। সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীল লোগো এবং ক্ষত পরিষ্কার করার সাকশন যন্ত্র ও প্রয়োগযোগ্য ওষুধের মতো পণ্যের লেবেল ছিল। সীমান্তে কর্মরত এক ডব্লিউএইচও কর্মী বলেন, কার্গোতে ‘অবৈধ ওষুধ’ থাকার অভিযোগে এটি আটকানো হয়েছে। রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি কেন ট্রাকগুলোকে গাজায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। আর সহায়তা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষও এই বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি। রয়টার্স সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিষ্ঠিত এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থনকারী প্রাক্তন বিশ্বনেতাদের সংগঠন ‘দ্য এল্ডার্স’-এর আয়োজিত সফরে গাজার সীমান্তে যায়।
এল্ডার্সের কিছু সদস্য গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে আছেন আয়ারল্যান্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক। এই সীমান্ত সফরে যোগ দেন তারা। গাজার ক্ষুধার্ত মানুষের ছবি দেখে আন্তর্জাতিক ক্ষোভের জবাবে ইসরাইল ২৭ জুলাই গাজায় আরো বেশি সহায়তা ঢোকার পদক্ষেপ ঘোষণা করে। তবে সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, তারা যা পাঠায় তার অল্প অংশই প্রবেশ করতে পারছে। ইসরাইল সহায়তা সীমিত করার অভিযোগ অস্বীকার করছে। রাফাহ সীমান্তে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে ক্ল¬ার্ক বলেন, সীমান্তে ফেরত দেয়া বিপুল পরিমাণ সহায়তা দেখে তিনি বিস্মিত।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ২১, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসা সূত্র, আলজাজিরা আরবিকে। নিহতদের মধ্যে সাতজন ছিলেন ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষ, যাদেরকে গাজার কেন্দ্র ও দক্ষিণাঞ্চলে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনাহারে আরো চারজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এ নিয়ে ইসরাইলি আগ্রাসন চলাকালে অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে, যার মধ্যে ১০৬ জন শিশু।


