ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর : এবার সেই ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা নদীবন্দর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোনো রুটে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশেও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় অভ্যন্তরীণ সব রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আশা পর্যন্ত নৌযান চলাচলের সিদ্ধান্তটি বহাল থাকবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড় আকারেও বেশ বড়। এটি ভারতের সমুদ্র উপকূলবর্তী তিনটি রাজ্য এবং বাংলাদেশের ওপর বিস্তৃত। তিতলি প্রতি ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার বেগে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর ফলে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ মধ্যরাতে বা ভোরবেলা ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন বলেন, তিতলি অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ১৪ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের দক্ষিণ ওডিশা, অন্ধ্র প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ—এই চারটি অঞ্চলজুড়ে ঘূর্ণিঝড়টি বিস্তৃত। প্রথমে ওডিশায় আঘাত হানতে পারে। এরপর বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে আসতে আসতে যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে ভালো। কিন্তু আরও শক্তি সঞ্চয় করলে বিপদ।

আজ দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারের তিতলি দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সৈকত থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর কবীর বলেন, ঘূর্ণিঝড় তিতলির আঘাত হানার আশঙ্কা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকা নৌবন্দর থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *