পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্তদের পাশাপাশি উপসর্গ নিয়েও হাসপাতালে আসছে অনেকে। তবে হাসপাতালে ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। জটিল রোগীদের চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজশাহী, খুলনা বা ঢাকায় পাঠানো ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না।
অন্যদিকে খুলনার অবস্থাও খুবই খারাপ। জেলা বা নগরই নয়, পুরো বিভাগেই প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড হচ্ছে। কভিড চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে শয্যা খালি নেই বললেই চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
গত বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪১ জনই পজিটিভ রেজাল্ট এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার শতভাগ। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার আগের রাতে তথ্য সংশোধন করে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, সর্বশেষ ১১০ জনের নমুনার মধ্যে ৪১ জন আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি ২০০৩ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বেড বাড়লেও লোকবল বাড়েনি। গত বছর করোনার সংক্রমণ দেখা দিলে হাসপাতালের পাশের নতুন ভবনটিকে ১৫০ শয্যার করোনা ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগটি নিয়ে যাওয়া হয় নতুন ভবনে। করোনা ইউনিটের জন্য কয়েকজন চিকিৎসক নিয়োগ হলেও নার্স, আয়া এবং অন্য কর্মী বাড়ানো যায়নি; বরং ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়া মূল হাসপাতাল থেকে করোনা ইউনিটে পাঠাতে হয় অনেক নার্স ও কর্মীকে। এতে সংকট হয়ে পড়ে আরো তীব্র। করোনার কারণে হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বেশির ভাগ রোগীর অভিযোগ, এ হাসপাতালে চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। ভালো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। বেড পাওয়া যায় না। হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ফুলবাড়ী গ্রামের আক্কাস আলী বলেন, ‘আমার পেটে ব্যথা। সকালে এসেছি। এখনো ডাক্তার দেখাতে পারলাম না। আমার কোনো টাকা-পয়সা নেই। কোনো ক্লিনিকেও যেতে পারছি না।’
হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে অপেক্ষায় থাকা এক যুবক নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘এখানে কোনো চিকিৎসা হয় না। মাঝেমধ্যেই আমি এখান থেকে রোগী নিয়ে রাজশাহী কিংবা ঢাকায় যাই।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে রোগী বাড়ছে। সকাল থেকে ওখানে ভিড় লেগে থাকে। ওখানকার সব রোগীই সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসছে।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালের কভিড রোগীদের জন্য নির্ধারিত রেড জোনে ৬১ জন ভর্তি ছিল। এ ছাড়া ইয়েলো জোনে উপসর্গ নিয়ে আরো ৮৫-৯০ জন ভর্তি ছিল। এ পর্যন্ত আক্রান্ত দুই হাজার ৮৭৩ জন। বর্তমানে সক্রিয় রোগী আছে ৬৯৭ জন। প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
নানা সংকটের কথা স্বীকার করেন সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান। তিনি বলেন, এমনিতেই ৫০ শয্যার লোকবল নিয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়া হাসপাতালের চিকিৎসাকাজ চালাতে হয়। তার ওপর করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে করোনা ওয়ার্ডে পাঠাতে হয়েছে। দুদিক সামাল দিতে গিয়ে আসলে অসুবিধা হচ্ছে। করোনার জন্য ১০ জন চিকিৎসক পেয়েছিলাম। একজন বদলি হয়েছেন। এখন আছে ৯ জন। তা নিয়ে চলছি। তবে নার্স, আয়া ও কিছু কর্মী সংকট রয়েছে। এসব নিয়েই চিকিৎসাব্যবস্থা চালাতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, জেলায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। এরই মধ্যে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও আলুকদিয়া ইউনিয়নে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলা এলাকায় সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে।


