ছাত্রদের রুটিন অনুযায়ী চলা উচিত
মাওলানা আমিনুল ইসলাম : সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি মোবাইলে কল উঠে আছে। কলটা আমার প্রিয় উস্তাদ মাওলানা শফিউল্লাহ সাহেবের। সঙ্গে সঙ্গে ফোন ব্যাক করলাম। অপর প্রান্ত থেকে সালাম দিয়ে হুজুর বললেন, কোথায় তুমি? বললাম বাড়িতে। হুজুর বললেন, তাড়াতাড়ি আস, আজ এক সাথে চা খাবো আমরা।
হুজুরের ফোন পেয়ে আর দেরী নয়। ছুটে চললাম। গিয়ে দেখি তিনি একদম তৈরী হয়ে আছেন। মুড়ি মাখানো আর চা। সকালে মুড়ি আর চা আমার প্রিয় তা তিনি জানতেন। তাই একেবারে তৈরী করে রেখেছেন।
শফিউল্লাহ সাহেব এমনই। গ্রামের বাড়িতে এলে তিনি আমাকে প্রতিদিন সকালে ফোন দেন। আর এক সাথে বসে চা আর বিভিন্ন গল্প- গুজবে সময় পার করেন।
অবশ্য তাঁর সাথে কখনো কোন বাজে গল্প হয়নি কোনদিন। তিনি এমন এমন গল্প টেনে আনেন, যার মধ্যে অনেক জ্ঞান থাকে। বিশেষ করে ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে বেশী আলোচনা হয়। তাঁর গবেষণা মুলক বিভিন্ন লিখনী নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা হয় সব সময়।
আজকে শফিউল্লাহ সাহেব হুজুরের সাথে ছাত্রদের ” নিজামুল আওকাত” দৈনন্দিন পড়া শুনার রুটিন নিয়ে আলোচনা হল। তিনি তাঁর ছোট ছেলের পড়ার রুটিন আমার সামনে হাজির করলেন। দেখলাম খুব মনোযোগ সহকারে।
হুজুর বললেন, দেখ! আমার ছেলের মাদ্রাসা এখন বন্ধ। তারপরেও বন্ধ কালিন সময়ের জন্য তাকে একটা রুটিন করে দিয়েছি। সেই রুটিন মোতাবেক তার বাড়িতে থাকতে হবে। সেই মোতাবেক তার বন্ধ পার করতে হবে।
আমাদের ছাত্রদের অনেকেরই আজ দৈনন্দিন চলার রুটিন নেই। সে কিভাবে লেখা পড়া করবে, কখন দরসি কিতাব পড়বে, কখন ইসলামী সাহিত্য পড়বে, কখন খেলা- ধুলা করবে, কখন বিশ্রাম নেবে, এরকম লিখিত আকারে কারো পাওয়া যায় না। ছাত্ররা অনেকেই নিজের ইচ্ছেমত চলছে। দেখা যায়, মূল ক্লাসের পড়ার সময় গায়রে দরসি কিতাব পড়ছে। লেখা পড়ার সময় ঘুমিয়ে পার করে দিচ্ছে। খেলাধুলার সময় বই নিয়ে উপন্যাস পড়ে যাচ্ছে। আর এ কারণে তারা এগিয়ে যেতে পারছেনা।
আমাদের আকাবির আছলাফের রুটিন অনুযায়ী চলার মন- মানসিকতা ছিল। কখনো রুটিনের বাইরে যেতেন না। এ কারণে কিন্তু তাদের জীবনটা গোছালো ছিল।
আমি কাজি মু’তাসিম বিল্লাহ (রহঃ) কে দেখেছি, ছাত্রদের রুটিন মাফিক চলার নির্দেশ দিতেন। নিজামুল আওকাত ছাত্রদের রুমে রুমে টানিয়ে রাখতেন। কেহ সে রুটিনের খেলাফ করলে শাস্তি দিতেন।
দারুল উলুম দেওবন্দে নিজামুল আওকাত অনুসারে চলার প্রতি উৎসাহিত করা হয়। এরকম যত বড় প্রতিষ্ঠান আছে, সব জায়গাতে এ ব্যাপারে তাকিদ করা হয়ে থাকে।
আমাদের দেশের বহু প্রতিষ্ঠানে নিজামুল আওকাত ফলো করা হয়। আবার এমনও প্রতিষ্ঠান আছে, যারা নিজামুল আওকাত কি জিনিস তারা জানেও না।
এজন্য ভাই বন্ধু, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে দৈনন্দিন রুটিন মাফিক চলা জরুরী। ইচ্ছেমত সব কিছু নয়। নিয়মের মধ্যে চলা উচিত সকলের।
আল্লাহ তাওফিক দিন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক ও সমাজ বিশ্লেষক


