জাতিসংঘে নিয়াহুর উসকানিমূলক ভাষণ

জাতিসংঘে নিয়াহুর উসকানিমূলক ভাষণ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সমালোচনার মধ্যেই শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দাবি করেন—ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় ‘কাজ শেষ করতে হবে’।

ভাষণ শুরুর আগে বহু রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি প্রতিবাদস্বরূপ হল ত্যাগ করেন। ফলে প্রায় ফাঁকা আসনে দাঁড়িয়েই বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু।

তিনি পশ্চিমা কয়েকটি দেশের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেন। নেতানিয়াহুর ভাষ্য, “এই সিদ্ধান্ত সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে। ইতিহাসে এটি লজ্জার দাগ হয়ে থাকবে।”

ভাষণের সময় নিউইয়র্কের রাস্তায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, “যিনি গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত, তাঁকে স্বাগত জানানো যায় না। নিউইয়র্ক তাঁর জন্য কোনো লালগালিচা নয়।”

নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে গাজার ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে হুমকি দিয়ে বলেন, “আমরা এখনো শেষ করিনি। অস্ত্র নামাও, বন্দিদের মুক্ত করো—না হলে মৃত্যু অনিবার্য।”

তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ভাষণ সরাসরি গাজায় প্রচারিত হচ্ছে এবং হামাস নেতারাও তা শুনছেন।

নেতানিয়াহু বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি। গাজায় প্রায় দুই বছরের আগ্রাসনে ইতোমধ্যেই ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তবে ভাষণে তিনি গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা যদি গণহত্যা করতে চাইতাম, মানুষকে সরতে বলতাম না।” বরং তিনি হামাসের বিরুদ্ধে সাহায্যপণ্য আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।

কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ নেতানিয়াহুর ভাষণকে “ক্লান্তিকর ও হাহাকারপূর্ণ” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু বন্দিদের মুক্তি কিংবা শান্তির কোনো রূপরেখা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অন্যদিকে গাজার প্রশাসন বলেছে, নেতানিয়াহু জাতিসংঘে অন্তত আটটি বড় মিথ্যা বলেছেন, যার সবই গাজায় চলমান যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যাকে আড়াল করার কৌশল।

সূত্র: আলজাজিরা

Related Articles