পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যুক্তরাষ্ট্রের পথ ধরে এবার বিতর্কিত পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) এ ঘোষণা দেন। খবর রয়টার্সের।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও শিগগিরই অস্ট্রেলীয় দূতাবাস স্থানান্তর করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মরিসন।
সিডনিতে সাংবাদিকদের অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া এখন পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা পশ্চিম জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করব যখন বাস্তব পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এবং চূড়ান্ত অবস্থা পর্যালোচনার পর। ‘পশ্চিম জেরুজালেমের পরিস্থিতি ও অবস্থা পর্যালোচনা করেই আমরা আমাদের দূতাবাস স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিব।’
অক্টোবরে মরিসন জানিয়েছিলেন জেরুজালেমে অস্ট্রেলীয় দূতাবাস স্থানান্তরে তার সম্মতি রয়েছে। এবছর মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর করেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ইসরায়েল খুশি হলেও ফিলিস্তিন, আরব বিশ্ব ও কয়েকটি পশ্চিমাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ওই সময় ট্রাম্পের ঘোষণার পর পরই বিক্ষোভে নামেন ফিলিস্তিনিরা। বিশ্বজুড়ে ঝড় ওঠে নিন্দা আর প্রতিবাদের।
ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান জেরুজালেম। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পথ ধরে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়াও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলো।
প্রসঙ্গত, জেরুসালেম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের একটি ঐতিহাসিক শহর। খ্রিস্টান, ইহুদি ও মুসলিমদের কাছে পবিত্র এই শহরটি বর্তমানে ইসরাইল-এর দখলে রয়েছে। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এর পূর্বাংশ জর্দান এর অধীনস্ত ছিল। এখানেই ইহুদি ধর্ম ও ইসলামের পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত।
মসজিদুল আকসা (আরবি: المسجد الاقصى) (আল-আকসা মসজিদ বা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত) ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। জেরুজালেমের পুরনো শহরে এটি অবস্থিত। এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলো সহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়।এছাড়াও স্থানটি “টেম্পল মাউন্ট” বলে পরিচত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়। বর্ণনা অণুযায়ী মুহাম্মদ (সা) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন।


