পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতে লোকসভা নির্বাচনের পরপরই সংখ্যালঘুদের উপর জাতিগত নির্যাতন কয়েকগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর ফের নির্যাতনের শিকার হলেন এক মাদরাসা শিক্ষক।
মাদরাসা শিক্ষক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান না দেওয়ায় ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আহত ব্যক্তির নাম হাফিজ মুহম্মদ শাহরুখ হালদার। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার পার্ক সার্কাস এলাকায়। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে,গত বৃহস্পতিবার বাসন্তীর বাসিন্দা হাফিজ মুহম্মদ শাহরুখ ক্যানিং স্টেশন থেকে শিয়ালদহগামী ট্রেনে উঠেছিলেন। ২০ বছর বয়সী শাহরুখের অভিযোগ, ট্রেনটি ঢাকুরিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর হঠাৎই ওই দলটির কয়েকজন সদস্য তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করে। কিন্তু তিনি রাজি না হলে তাকে মারধর করা হয়। পরে পার্ক সার্কাস স্টেশনে ট্রেন ঢোকার পর ধাক্কা দিয়ে তাকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় ওই শিক্ষককে। নিজেকে নিত্যযাত্রী দাবি করে শাহরুখ বলেন, ট্রেনে কামরা ভর্তি লোকের সামনে তাকে মারধর করা হলেও কেউ কোনো প্রতিবাদ জানাননি।
মাদ্রাসা শিক্ষকের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি তোপসিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে সেখানে অভিযোগ নেওয়া হয়নি। থানা জানিয়ে দেয়, জিআরপির কাছে অভিযোগ জানাতে হবে-এমনই দাবি শাহরুখের।
জিআরপি স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা হালদার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের স্লোগানের কথা উল্লেখ ছিল না। তবে তার অভিযোগ মোতাবেক সবদিকই ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে।’
এদিকে চলতি গত সোমবার ঝাড়খণ্ডে ‘জয় শ্রী রাম’ না বলায় এক সংখ্যালঘু যুবককে ব্যাপক মারধর করা হয়। টানা ১৮ ঘণ্টা ওই যুবকের ওপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শেষে তার মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এবার কলকাতায় ‘রামভক্তদের’ তাণ্ডব আরও বিতর্ক বাড়িয়ে দিল। তবে পার্ক সার্কাসের এই ঘটনার পেছনে শুধু ‘জয় শ্রী রাম’নাকি অন্য কোনো কারণ আছে তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।


