পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে গাজা দখলে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা থামছেই না। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনিদের বৈধ আকাঙ্ক্ষার ওপর আঘাত এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশগুলো।
ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর ধ্বংসযজ্ঞের এক মাস না পেরোতেই গাজা দখলের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প গাজা নিয়ে তার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। জানান ফিলিস্তিনিদের দেশছাড়া করে অঞ্চলটি পুননির্মাণ করার কথা।
ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর করে গাজা দখলের প্রস্তাব দিয়ে বিশ্বব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন প্রস্তাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিলিস্তিন ও ইসরাইলে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রক্রিয়ায় তার দেশের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অবশ্যই তাদের ঘরে ফিরতে দিতে হবে।
গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকটপূর্ণ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, ফিলিস্তিনিদেরকে অবশ্যই গাজা ও পশ্চিম তীরে নিরাপদে বাস করা ও উন্নয়নের সুযোগ পেতে হবে।
গাজার ফিলিস্তিনি জনগণকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করার বিরোধিতা করেছে ফ্রান্সও। ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিষয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তার এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটি ফিলিস্তিনিদের বৈধ আকাঙ্ক্ষার ওপর আঘাত এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য একটি বড় বাধা।
গাজাকে ফিলিস্তিনিদের ভূমি আখ্যা দিয়ে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস বলেন, অঞ্চলটি ভবিষ্যত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ, যা স্পেন সমর্থন করে এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা ও উন্নতির নিশ্চয়তা দিয়ে গাজা পাশাপাশি অবস্থানে থাকতে হবে।
গাজাবাসীকে নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আশা করে, সব পক্ষই যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত পরবর্তী শাসনকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করবে যাতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের বিষয়টিকে রাজনৈতিক সমাধানের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাশিয়া মনে করে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মীমাংসা কেবল দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতেই সম্ভব।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, গাজা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য বেআইনি ও ভয়ংকর। জোরপূর্বক উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেয়াকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন হামাসের সিনিয়র নেতা ইজ্জাত এল-রেশিক। তিনি বলেন, ‘গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের নির্বাসন এবং গাজা উপত্যকার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) বিবৃতিকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বিবৃতি ফিলিস্তিন এবং এই অঞ্চল সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও গভীর অজ্ঞতার প্রতিফলন। গাজা অবশ্যই সাধারণ কোনো ভূখণ্ড নয় এবং এটি এমন কোনো সম্পত্তি নয় যা কেনা-বেচা করা যায়। এমন বিবৃতি (ট্রাম্পের মন্তব্য) প্রমাণ করে যে, ইসরাইলের প্রতি এবং আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ও তাদের ন্যায্য অধিকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতিত্ব অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ট্রাম্প কেবল গাজার ধ্বংসস্তূপ সরাতে চান। আর তা করতে হলে উপত্যকাটির মানুষদের অন্য জায়গায় সরে যেতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট কঠোর কোন পদক্ষেপের কথা বোঝাননি বলেও দাবি করেন রুবিও। আর হোয়াইট হাউস বলেছে, গাজা দখলে নেয়ার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে উপত্যকায় মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন নি ট্রাম্প।


