তাকফিরি গ্রুপের বিপজ্জনক চিন্তা
যোবায়ের বিন আরমান : কুফরির ফতুয়া এতোই সস্তা হয়েছে যে, যার মনে চায় সেই দিয়ে দিচ্ছে! বর্তমান প্রজন্মে দুঃখজনকভাবে এরকম একটি গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এরা সামান্য কিছু দেখলেই কাফের মুরতাদ বলে ফতুয়া মেরে বসে। সেদিন প্রয়াত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ জন্যে দোয়া করলাম, তো এক বোন মেসেঞ্জারে এসে বলছেন এরকম মুরতাদের জন্যে দোয়ার বিধান কি?
বিতর্কে গেলে ওরা যা বলে তাতে তাদের পিতা-মাতাও মরতাদ হওয়া থেকে রেহাই পাবার কথা নয়। তারা সেটা বুঝেন কিনা জানি না।
আবার সম্ভবত কিছু গ্রুপ আছে যারা ঢালাওভাবে সকলকে কাফের না বললেও তাকফিরি বিষয়ে এতো সবক দেন যে, তাদের দেখে অনেকেই ফতুয়া দেওয়া শিখে নেয়।
এরুপ বহু জনের সাথে কথা হয়েছে। একেক জনের একেক চিন্তা। কখনো বিভিন্ন কমেন্টে বিভিন্নজনের বিভিন্ন তাকফিরি ফতুয়া নজরে পড়ে। কিন্তু পরে আবার তারা বদলিয়েও ফেলে। আসলে বাংলাদেশে এরুপ গ্রুপ বা মূল বৃক্ষ কতটি সেটা এখনো বুঝি নি।
মানহাজি কারা? মাদখালি কারা? কাদের কি মিশন সেটা এখনো বুঝার সুযোগ হয় নি। কিন্তু সাপ না দেখলেও তার বিষে নিল হয়ে যাওয়া পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি স্পষ্টতই।
আমি আমার বন্ধু, ভাইদের বলবো, খুব সহজে কাওকে কাফের বলা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এক ভাই এ বিষয়ে ইমাম গাজালীর কওল তাখরীজ করেছেন যা নিম্নে দেয়া হল।
ইমাম গাযালী রহঃ বলেন,
১। আইনজ্ঞ ব্যক্তির করণীয় হলোঃ যথাসম্ভব “তাকফির” থেকে বেঁচে থাকা। কেননা যারা মুখে লাইলাহা ইল্লাল্লাহ স্বীকার করেছে এবং কিবলার দিকে নামায পড়েছে তাদের কাফের বলা ভুল। আর দুনিয়াতে হাজার হাজার কাফেরকে ছেড়ে দেয়ার ভুল আমার কাছে একজন মুসলিমকে ভুলে কাফের বলার চাইতে সহজ। (আল ইকতিসাদ ফিল ই’তিকাদঃ ১৫৭)
২। যেমনি হোক, বিরোধী পক্ষের যুক্তিকে ভুল মনে করলেই তাকে কাফের বলা উচিৎ নয়। হ্যাঁ, তাকে গোমরাহ বা বিদয়াতি বলা জায়েয আছে। (ফায়সালুত তাফরিকাঃ ৮৫)
৩। সবচেয়ে কট্টরপন্থী মানুষ হলো একদল আলেম, যারা সাধারণ মুসলমানদের কাফের আখ্যা দেয়। আর দাবী করে, “যারা আমাদের দেখানো দলিলের আলোকে শরীয়ত মানেনা তারা কাফের”।এসকল মানুষ আল্লাহ্র প্রশস্ত রহমতকে সংকীর্ণ করে দিয়েছে এবং জান্নাতকে কতিপয় মানুষের জন্য সাব্যস্ত করছে। (ফায়সালুত তাফরিকাঃ ৯৩)
৪। আমার অসিয়ত হলোঃ যে মুসলমান মুখে কালেমা পড়েছে এবং কিবলার দিকে নামায আদায় করেছে যতক্ষণ পর্যন্ত তার থেকে এই কালেমার বিপরীত কিছু না পাওয়া যাবে তার ব্যাপারে (কোন সিদ্ধান্ত দিতে) তোমার যবানকে বন্ধ রাখো।কালেমার বিপরীত কিছু হলো, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর উপর ইচ্ছায় – অনিচ্ছায় মিথ্যারোপকে জায়েয মনে করা।
কেননা ‘তাকফির’ একটি স্পর্শকাতর বিষয়, আর চুপ থাকার মধ্যে কোন ক্ষতি নেই। (ফায়সালুত তাফরিকাঃ ৮৯)
আসুন, তাকফিরি ফতুয়া দেওয়া থেকে বিরত থাকি। এটা মুফতীদের কাজ। এমনকি আমার মতে যতক্ষণনা দুনিয়ার বা দেশের সিংহভাগ মুফতী কোন দল গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে মুরতাদ বা কাফের বলে চিহ্নিত করেছেন ততক্ষণ নিরব থাকাই নিরাপদ।
কী দরকার আছে স্পর্শকাতর বিষয়ে পণ্ডিতি করে নিজেকে বিপদের সম্মূখীন করার? জানেন তো কাউকে কাফের বললে সে যদি কাফের না হয় তবে ফতুয়া কই যায়?
যদি একথা মানেন যে, তাকফিরি করা স্পর্শকাতর বিষয় তবে অখ্যাত আজ্ঞাত ভার্চুয়াল শায়খদের ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ রইলো।


