তালাক না দেয়ায় স্বামীকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখল স্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যৌতুক না দেয়ায় স্ত্রীর উপর নির্যাতন, তাকে হত্যার খবর অহরহ শোনা যায়, কিন্তু স্ত্রীকে তালাক না দেয়ায় ‘স্বামীকে হত্যা করা’ এমনটা শোনা না গেলেও সেটাই ঘটেছে এবার।

‘কাবিনের দেড়লাখ টাকাসহ তালাক না দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা করি। পরে সুযোগ বুঝে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখি।’

বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকালে কালিগঞ্জে নিহতের স্ত্রী সাবিনা খাতুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের নীলকণ্ঠপুর গ্রামের আবিদ হোসেন মোল্লা ওরফে বাবু (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর লাশের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ সাবিনা খাতুনের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী বুধবার ভোরে তার বাড়ির পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত খেঁজুরের কাটা, হাতুড়ি, প্লাস, রক্তমাখা জামা, লুঙ্গি উদ্ধার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন হাজরাহাটি তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত সাবিনা খাতুনের ভাই সিপাহী আরিফ হোসেনকে আটক করে সাতক্ষীরায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আট মাস আগে একই গ্রাম নীলকণ্ঠপুরের মুক্তিযোদ্ধা আরশাদ আলী মোড়লের মেয়ে দুই সন্তানের জননী বিধবা সাবিনাকে বিয়ে করে ভাটা শ্রমিক আবিদ হোসেন মোল্লা ওরফে বাবু (২৭)। বিয়ের পর তিনি ভাটার কাজ ছেড়ে দিয়ে সৎ শ্যালক নুরুল মোড়লের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো। বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাবা মা বললেও শ্বশুর বাড়িতে থাকতো বাবু। একপর্যায়ে সাবিনা মাগুরা জেলায় কর্মরত এক বিজিবি কর্মীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এ নিয়ে কাবিনের দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করে সাবিনাকে তালাক দিতে বলে সাবিনা ও তার পুলিশ সদস্য ভাই আরিফ ও বোন শরিফা।

বাবু তার স্ত্রীকে তালাক দিতে রাজী না হওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে পুলিশ সদস্য আরিফ। গত সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর বাবুর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুরপাড়ে লেবু গাছের ডালে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার সকালেই আরিফ তার কর্মস্থলে যোগ দেন।

পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাবিনাকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের মা হোসনে আরা খাতুন বাদী হয়ে আরিফ ও সাবিনাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সাবিনাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজে ও আরো চারজন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিয়ারত আলী জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাবিনা খাতুন তার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে বুধবার বিকেলে তিনি সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম ইয়াসমিন নাহারের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সাবিনার ভাই মাগুরা জেলার শালিখা থানাধীন হাজরাহাটি তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ বুধবার থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *