থাকছে না রোল নম্বর, শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিক আইডি কার্ড

থাকছে না রোল নম্বর, শিক্ষার্থীরা পাবে ইউনিক আইডি কার্ড

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২০২২ সালে সারা দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩ কোটি শিক্ষার্থীকে রোল নম্বরের পরিবর্তে ইউনিক আইডি কার্ড দেওয়া হবে। এই ইউনিক আইডি নম্বরগুলো শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরে রূপান্তরিত হবে। ফলে এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি নম্বরগুলো জাতীয় সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে সেই ইউনিক আইডি নম্বরগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরে রূপান্তরিত হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “আমরা আশা করছি ইউনিক আইডি পদ্ধতি চালু এবং পুরানো রোল নম্বর পদ্ধতি উঠিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং তাদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।”

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সহযোগিতামূলক মানসিকতা সৃষ্টি করতে চাই এবং এই ইউনিক আইডি নম্বরগুলো এক্ষেত্রে সাহায্য করবে।”

এর আগে পুরানো রোল নম্বর সিস্টেমের মাধ্যমে সৃষ্ট অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শেষ করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬৪ কোটি টাকার প্রোফাইল প্রকল্প এবং ৩১৩ কোটি টাকার সমন্বিত শিক্ষাগত তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (আইইআইএমএস) নামের দুটি পৃথক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত প্রোফাইল প্রকল্পের কাজ এ বছরই শেষ হওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, ২০২২ সালের জুনের মধ্যেই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বাস্তবায়িত আইইআইএমএস প্রকল্পটি সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দুটি প্রকল্পের কাজই বিঘ্নিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্রের সঙ্গে অন্য আরেকজন শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র মিলে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিক আইডির জন্য প্রোফাইল ফর প্রাইমারি স্কুল স্টুডেন্টস প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোফাইল প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুরুল আলম প্রধান জানান, ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর ইউনিক আইডি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তথ্য লিপিবদ্ধের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই ৮০টি স্কুলের জন্য ইউনিক আইডি সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শিক্ষাগত তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী ইউনিক আইডি পাবে।

আইইআইএমএসের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম জানান, ইউনিক আইডি ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া এ বছরের ৩০ নভেম্বর শেষ হবে। তিনি আরও জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অসঙ্গতির কারণে এ বছর সবার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রততর সময়ে কারিগরি ত্রুটির সমাধান করা গেলে ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেওয়া সম্ভব হতো বলেও জানান তিনি।

যেসব শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল উপায়ে জন্ম নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করেছে তাদের নিবন্ধনের জন্য শুধুমাত্র বাবা-মায়ের এনআইডি দিতে হবে। অন্যদিকে, যেসব শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল উপায়ে জন্ম নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করেনি তাদের ক্ষেত্রে এনআইডি এবং জন্ম নিবন্ধন তথ্য দুটোরই প্রয়োজন হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *