দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বহুবিবাহ বৈধ করার প্রস্তাবে প্রতিবাদের ঝড়

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বহুবিবাহ বৈধ করার প্রস্তাবে প্রতিবাদের ঝড়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : একজন নারী একসঙ্গে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করার বৈধতা দেয়ার প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন দেশটির রক্ষণশীল সমাজের নেতারা, যা দেখে বিশ্লেষকরা রীতিমতো বিস্মিত।

বিসিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাংবিধানিকভাবে নারী সমকামী ও পুরুষ সমকামীদের বিয়ে বৈধ। রয়েছে পুরুষদের বহুবিবাহের বৈধতা। এবার নারীদের বহুবিবাহ বৈধ করার প্রস্তাব এনেছে উদারপন্থী সংবিধানের দেশটি।

এর বিরোধিতা করছেন জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী মুসা এমসেলেকু, যার ঘরে ৪ জন স্ত্রী রয়েছে। একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে সংসাদ বিষয়ক অনুষ্ঠান করে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন তিনি।

নারীদের বহুবিবাহ হলে আফ্রিকার সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে উল্লেখ করে মুসা এমসেলেকু প্রশ্ন রাখেন, এদের সন্তানরা কীভাবে জানবে যে, তাদের জন্মদাতা কে?

নারীরা পুরুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাহলে কি এখন পুরুষদের বিয়ে করতে দেনমোহর দেবে মেয়েরা? পুরুষরা কী এখন থেকে নিজের নামের সঙ্গে ওই নারীর পদবি ব্যবহার করবে?

এ রকম নানা প্রশ্ন তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণশীল সমাজের অনেকেই বলছেন, শারীরিক গঠন ও প্রকৃতিগত দিক দিয়েই একজন নারী একসঙ্গে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করার সক্ষমতা রাখেন না। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত এমন ঘটনা কেউ দেখেনি, শোনেওনি কখনো। নারীর বহুবিবাহ হতে পারে না, কোনোভাবেই সম্ভব না।

তবে দেশটির সরকারের করা এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের যুক্তি দেখান খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ কলিস মাচোকো। প্রতিবেশী জিম্বাবুয়েতে জন্ম নেয়া এই গবেষক নারীদের বহুবিবাহ নিয়ে কাজ করছেন।

একাধিক স্বামী থাকা অন্তত ২০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে কলিস মাচোকো বলেন, একাধিক স্বামীর সঙ্গে মিলে স্ত্রীর ঘর করা ৪৫ জন স্বামীর সাথেও কথা হয়েছে। নারীর একসঙ্গে একাধিক পুরুষের বিয়ে নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই তাদের।

নারীর বহুবিবাহের বিরোধিতার মূলে পুরুষদের ‘নিয়ন্ত্রণের’ সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, এর মানে হলো- আফ্রিকান সমাজ এখনো নারী-পুরুষের সমান অধিকারের জন্য প্রস্তুত নয়। নিয়ন্ত্রণ করা যায় না- এমন নারীদের সঙ্গে আচরণ কেমন হবে, তা আমরা জানি না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *