পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী দিল্লী তাবলীগ জামায়াতের পক্ষে যে অবস্থান নিয়েছিলেন তা যৌক্তিক প্রমাণিত হয়েছে দেশটির আদালতে।
মাহমুদ মাদানীর বলেছিলেন, ভারতে করানোভাইরাস ছড়ানোর জন্য শুধু শুধু নিজামুদ্দিনের তাবলীগ জামাতের বিদেশি মেহমানদের দোষারোপ করা হচ্ছে। মূলত পরিকল্পিতভাবেই তাদের ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে।
এখন মাহমুদ মাদানীর মত করেই আদালত বলছে, ‘করোনা নিয়ে দিল্লির তাবলিগের বিদেশিদের বলির পাঁঠা করা হয়। ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়া বিদেশি মুসল্লিদের করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য দোষারোপের মাধ্যমে তাঁদের ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছে।’- বোম্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
তাবলিগ জামাতের ২৯ বিদেশি সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিল করে গত শুক্রবার বোম্বে হাইকোর্ট ওই পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই মুসল্লিদের করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য দোষারোপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সরকার ওই মুসল্লিদের বলির পাঁঠা বানিয়েছে।
গত মার্চে দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের সমাবেশ হয়। নিজামুদ্দিনে সমাবেশে হাজারো দেশি-বিদেশি মুসল্লি অংশ নেন। এতে যোগ দেওয়ার পরে অনেক মুসল্লি দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের জন্য চলে যান।
জামাতে অংশ নেওয়ার পর শতাধিক মুসল্লির করোনা শনাক্ত হয়। তখন করোনা ছড়ানোর জন্য নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের দোষারোপ করা হয়। নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতে যোগ দেওয়া ২৯ জন বিদেশি মুসল্লির বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে মহামারি ব্যাধি, বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা ও বিদেশি নাগরিক আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এছাড়া ভারতজুড়ে লকডাউনের সময়ে তাবলিগ জামাতের দুই হাজারের বেশি সদস্য দিল্লীতে আটকে পড়েছিল। এদের কেউ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, হাসপাতালে দেড় মাস পর্যন্ত ছিল। এই দুই হাজার মুসল্লিকে যার যার বাড়িতে পাঠানোর কাজ করছিলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারী সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
তিনি এই দুঃসময়ে আটকে পড়া মানুষদের জন্য সাহরি, ইফতার ও রাতের খাবারের সার্বিক ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। এসব খাবার দাবার পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছে জমিয়ত ইয়ুথক্লাব।
কিছুদিন আগে বিভিন্ন অভিযোগে ওই তাবলিগ জামাতের হাজারো মুসল্লিকে কালো তালিকাভুক্ত করে সরকার। ২৯ বিদেশির বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে বোম্বে হাইকোর্ট কিছু পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলে, নিজামুদ্দিন মারকাজে যোগ দেওয়া বিদেশি মুসল্লিদের বিরুদ্ধে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বড় ধরনের প্রচারণা চালানো হয়। ভারতে করোনা ছড়ানোর জন্য এই বিদেশি মুসল্লিরা দায়ী—এমন একটা চিত্র তৈরির চেষ্টা করা হয়।
আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, পুরো ঘটনায় যন্ত্রচালিত পুতুলের মতো কাজ করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। রাজনৈতিক চাপে পড়ে তাবলিগ জামাতের সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। দেশজুড়ে করোনা বিপর্যয়ের দেখা দিলে সরকার বলির পাঁঠা খোঁজার চেষ্টা করে। আর ওই বিদেশি মুসল্লিদের বলির পাঁঠা করা হয়।
/এএ


