নিজস্ব প্রতিদবেদক : দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে দেশ। দেশের সব মানুষের প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণে বাড়ছে মাছ-মাংস উৎপাদনও। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের গত আট বছরে মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেছেন।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে একটি ডেইরি বোর্ড প্রতিষ্ঠাসহ নীতি সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ‘ এ লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত গরু কেনার জন্য জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে ১৭৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত ২১ মাসে এই ঋণ দেওয়া হয়। একই দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মৎস্য সম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে মৎস্য অধিদফতরের আওতায় ১৮টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৯৭ কোটি এক লাখ টাকা।
এ ছাড়া মৎস্য গবেষণা ইনিস্টিটিউটের আওতায় দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা জোরদার ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং ঝিনুক ও শামুক চাষ বাড়াতে ১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মৎস্যখাতে ক্ষুদ্রঋণ নির্দেশিকা-২০১১-এর আওতায় ৫৫ হাজার ৫৯৯ জনকে ৩৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি দলের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছ উৎপাদন বাড়াতে চার বছর (২০১৫-১৯) মেয়াদি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর আওতায় ইতিমধ্যে ৪৩ জেলার ১৭৫টি পুকুর/দিঘী, ৩২টি খাল/বিল পুনঃখনন করে চাষের উপযোগী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ পেয়েছে তিন হাজার ২৭৫ সুফলভোগী। এ ছাড়া সংস্কারকৃত জলাশয়ে ২০০ পাইপ কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রাণীরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দেশের বিমান, সমুদ্র ও স্থল বন্দর এলাকায় ২৪টি কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, পিকআপ ও মোটর সাইকেল ক্রয় করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আরেক সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়েও ২২টি মিনি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে দেশে সরকারি পর্যায়ের ৮৪টি হ্যাচারির সুবিধাসহ ১৩৬টি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার এবং বেসরকারি পর্যায়ের ৯৫২টি মৎস্য হ্যাচারি রয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার দেশে পোল্ট্রি ও ডেইরি খামারের সংখ্যা বাড়াতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
এ ছাড়া খামারগুলোকে লাভজনক করতে এগুলোর উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার আওতায় দেশের তিন হাজার ৮৮০টি কৃত্রিম প্রজনন উপকেন্দ্র ও পয়েন্ট পরিচালিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোলস্নার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মাংসের চাহিদা পূরণে মুরগির পাশাপাশি হাঁস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পের কাজ চলছে। একই দলের নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দেশের সকল মানুষের প্রাণীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ বেড়েছে। এ সময় তিনি চিংড়ির ও ইলিশ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।


