আজ শেখ হাসিনার জন্ম দিন
দূরদর্শি নেতৃত্বে এগিয়ে যাক দেশ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সমাজ, দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ তার জন্মদিন। ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। পিতা শেখ মুজিব তখন কলকাতায় ভারত ভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দাঙ্গা প্রতিরোধ এবং লেখাপড়া নিয়ে মহাব্যাস্ত। দাদা ও দাদীর স্নেহ-আশীর্বাদ নিয়ে তার জীবন শুরু হয়। দাদা তার নাম রাখেন ‘হাসিনা’। মা তাকে বুকের ভেতর মমতায় জড়িয়ে রাখতেন। জন্মের খবর পেয়ে পিতা একদিন হঠাৎ বাড়ি এসে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে ‘হাচুমণি’ ডেকে আনন্দ প্রকাশ করে কপালে চুম্বন এঁকে দিলেন। সেদিনই তার ভাগ্যের লিখন তৈরি হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সেই আদরের নয়নমণি ছোট্ট ‘হাচুমণি’ একদিন বড় হয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রিয় নেত্রী হয়ে উঠলেন এবং ধীরে ধীরে বিশ্বনেত্রীর মর্যাদায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। গ্রামের নদী-নালা-খাল-বিলের স্রোতের শব্দ এবং সবুজ প্রকৃতির গন্ধ মেখে তার শৈশব কাটে। সেখানেই শিক্ষা জীবন শুরু হয়। পরে ঢাকায় স্কুলে, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। মা ফজিলাতুননেছা রেণুর ছায়াসঙ্গী হয়ে পিতার রাজনৈতিক জীবনকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখেন এবং নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে একজন আদর্শময়ী হিসেবে গড়ে তোলেন।
তারুণ্যের ছায়ায় দেখা শেখ হাসিনা আজ অভিজ্ঞতায় অনেক সমৃদ্ধ। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি অনেক শক্তিশালী। বুদ্ধিমত্তা আগের মতই প্রখর, সহনশীলতা ও দৃঢ়তা, ধৈর্য, যেন তার চরিত্রগত ধর্ম। ভালোবাসায় ও সহমর্মীতায় তিনি এখনও বন্ধুদের কাছে প্রিয় এবং সকলের অতি আপনজন। তাই আজ আমাদের কাছে গর্বের বিষয় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে জনগণের কাছে নন্দিত।
চতুর্থবারের মত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এসএমই খাতে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে করোনাকালেও দেশের প্রবৃদ্ধি এশিয়ায় প্রায় সবদেশের ওপরে। গত সাড়ে ৬ মাস বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একদিনের জন্যও বসে থাকেননি, প্রতিদিনই কাজ করছেন। করোনা মোকাবেলায় তাঁর বলিষ্ট নেতৃত্বে এই মহামারিকে নিয়ন্ত্রন এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখা গেছে।
বাংলাদেশের মতো পিছিয়ে পড়া দেশ এখন বিশ্ব নেতৃত্বে অবদান রাখছে। জাতিসংঘের ভাষণে শেখ হাসিনার নিজের বাবার মতোই দেশের পক্ষে, পৃথিবীর অনাহারী মানুষের পক্ষে দারুণ শক্তিমত্তার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ আরও সমৃদ্ধশালী হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।


