দেশি খামারিদের পশু বিক্রিতে সুযোগ করে দিন

দেশি খামারিদের পশু বিক্রিতে সুযোগ করে দিন

দেশি খামারিদের পশু বিক্রিতে সুযোগ করে দিন

বাজার পড়তির দিকে পড়ে যখন বিদেশী গরুতে সয়লাব হয়ে আমাদের হাট। দেশি খামারিরা তখন প্রতারিত হন। নির্ধারিত পশুর মূল্য নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন না। ফলে পরের বছরর এ ব্যবসায় এগিয়ে আসার সাহস্য পান না তারা। দেশি খামারিদের বাঁচাতে হবে। আগে দেশ, এরপর বন্ধুত্ব-বিদেশ। দেশের মানুষের সুবিধা ও অসুবিধা সবার আগে। দেশের খামারিদের ঘরে খুশি এলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো। পরিতাপের বিষয় হলো, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসছে।

কিছু কিছু স্থানে কড়াকড়ি থাকলেও বেশ কয়েকটি করিডোর দিয়ে গত বছরের তুলনায় বেশি গরু আসছে এমন অভিযোগও উঠেছে। গরু আসছে পুবের মিয়ানমার সীমান্ত দিয়েও। তবে সাতক্ষীরা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে গরু কম আসছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তপথে আসা ভারতীয় গরু কোরবানির পশুর হাটেও তোলা হচ্ছে। এতে কমে গেছে দেশি গরুর দাম। ফলে হতাশায় পড়েছেন দেশি খামারিরা। তারা ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। হাটে দেশি গরুর চেয়ে ভারতীয় গরুর দাম তুলনামূলক কম। এর প্রভাবে দেশি গরুরও দাম পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে ট্রাকবোঝাই ভারতীয় গরু আসছে। অথচ উল্লিখিত দুই জেলায় কোরবানির জন্য পশু আছে ৩ লাখ ৭০ হাজার। কোরবানি শেষে উদ্বৃত্ত থাকবে ১ লাখ গবাদি পশু। এর পরও ভারত থেকে গরু আমদানি হওয়ায় হতাশ স্থানীয় খামারিরা। তারা বলছেন, এবার বন্যার কারণে অনেকেই গবাদি পশু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বন্যায় গবাদি পশু পালন করা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে করোনা মহামারীর জন্য কোরবানির পশুর হাট জমছে না। করোনা আর বন্যার কারণে এবার এমনিতেই পশুর দাম কম। এ অবস্থায় ভারতীয় গরু আমদানিতে দাম আরও কমছে। বাধ্য হয়ে কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে খামারিদের। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিজিবিসূত্র বলছেন, রাজশাহীতে চারটি খাটাল আছে। এর একটি খাটাল দিয়ে ভারতীয় গরু আসছে। সরকার যদি খাটাল চালু রেখে গরু আমদানির সুযোগ দেয় তাহলে খামারিদের কিছু করার থাকে না। ঢাকার পশু ব্যবসায়িরা এবার থমকে গেছেন। খামারে খামারে গিয়ে তারা গরু কিনতেন। এবার তারা যাচ্ছেন না। অনেক কম পরিমাণ ঢাকার গরু ব্যবসায়িদের চোখে পাড়ে।

আমরা আশা করবো, দেশি খামারিদের স্বার্থে ভারতীয় পশু বর্জন করা হোক।

– মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *