দেশে এখন দুটি দল মাত্র- আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি : এরশাদ

দেশে এখন দুটি দল মাত্র- আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি : এরশাদ

পাথেয় রিপোর্ট : দেশে এখন মাত্র দুটি দল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ। এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন দুটি দল মাত্র- আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর কোনো দল নেই। আমার দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করে আমি যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব তা তোমরা গ্রহণ করবে বলে আশা করি।’

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার চলাকালীন এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বেলা ১১টায় সাক্ষাৎকার শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ৪৫ মিনিট পর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সেখানে হাজির হন পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ অন্য নেতারা। বক্তব্য শেষে বেলা সোয়া একটার দিকে বের হয়ে যান তাঁরা।

বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির নেতারা বলেছেন, পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। সবাই যেন সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের পক্ষে কাজ করেন।

বক্তৃতায় এরশাদ বলেন, ‘আল্লাহ সুযোগ দিয়েছেন আমাদের। আমাদের তো বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা। এখন দুটি দল মাত্র, আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টি। আর কোনো দল নাই। অনেক দুঃসময় পেরিয়ে জাতীয় পার্টি আবার জেগে উঠেছে। পার্টি সাংগঠনিক রূপ নিয়েছে, যা ধরে রাখতে হবে।’

এরশাদ বলেন, দেশ, পার্টি এবং দলের নেতাকর্মীদের কথা বিবেচনা করেই ৩০০ আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। আমি ৩০০ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করব, এখানো আর কারো দায়িত্ব নেই। আমি দেখতে চাই ৩০০ আসনেই জাতীয় পার্টির যোগ্য প্রার্থী আছে। প্রাথমিকভাবে ৩০০ প্রার্থী ঘোষণা করব। তারপর সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। রাজনৈতিক মেরুকরণে যদি অন্য কোনো জোটে যেতে হয়, আমি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেব।

নেতাকর্মীদের বলেন, তোমরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবে, সময়মতো আমি সিদ্ধান্ত জানাব। বলেন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব, আশা করি তোমরা তা মেনে নেবে। আমাদের সুদিন এসেছে, জাতীয় পার্টি আবার জেগে উঠেছে। ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর এবার সর্বোচ্চ মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এটা আমাদের বড় অর্জন। জাতীয় পার্টি এখনো বেঁচে আছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে বাঁচিয়ে রেখেছি, আজকের দিনটির জন্য। আজ মাঠে আছে আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টি। আর কোনো দল নেই মাঠে।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ আরও বলেন, আজ এত লোক তাঁর সঙ্গে। জাতীয় পার্টির দুঃখ ঘুচেছে। জাতীয় পার্টি বিলীন হয়নি, তার প্রমাণ দলের নেতা-কর্মীরা। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারবেন না। যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই মনোনয়ন দেবেন। এটা সবাইকে মেনে নিতে হবে।

এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যায়নি। এ জন্য ৩০০ আসনে প্রার্থী আছে কি না, তা দেখতে চেয়েছিলেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যা দেখে বুঝতে পেরেছেন তাঁরা সফল হয়েছেন।

গত ১১ নভেম্বর থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়। চলে পাঁচ দিন। এরই ধারাবাহিকতায় মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ আজ শুরু হয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে এবার ২৮৬৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে বাছাই করে ৭৮০ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। সেখান থেকে ৩০০ আসনের প্রার্থী নির্ধারণ হবে। তবে রাজনৈতিক কারণে দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা সবাই মেনে নেবেন- মনোনয়ন পওয়ার ক্ষেত্রে এমন শর্তও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

এরশাদ বলেন, ‘এই পার্টির জন্য আমার চেয়ে কেউ এত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে নাই। একটা দিনের জন্যও মুক্ত ছিলাম না আমি। এখনো নই। একটা দিনের জন্যও শান্তিতে ছিলাম না। এখনো মামলা চলছে আমার। মামলার নিষ্পত্তি হয় নাই। এই মামলার ভার মাথায় নিয়ে আমি তোমাদের নেতৃত্ব দিয়েছি।’

এদিকে স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেবেন, তা পার্টির সবাই মেনে নেবেন। দলের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্তে পার্টির কেউ এরশাদকে ছেড়ে যাবেন না। কারণ এরশাদকে সবাই বিশ্বাস করেন। বৃহত্তর স্বার্থে মহাজোট কিংবা অন্য কোনো জোটে এরশাদ যাবেন কি না, সেটা একান্ত তাঁর (এরশাদ) সিদ্ধান্ত। মহাসচিবের মতে, এরশাদ নির্ভুল পথে হাঁটছেন।

জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী ব্যরিস্টার আসিনুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শেখ মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ফখরুল ইমাম এমপি, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, নুর-ই- হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মো. আজম খান, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, আতিকুর রহমান আতিক, নাসরিন জাহান রতনা এমপি, আবদুর রশীদ সরকার, মেজর (অব.) খালেদ আখতার প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *