ধ্বংসের মুখে দেশের নদ-নদী-জলাশয়

ধ্বংসের মুখে দেশের নদ-নদী-জলাশয়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : অব্যাহত দখল, অবকাঠামো ও দূষণ ধ্বংসের মুখে সারাদেশের নদ-নদী-জলাশয়। নদী থেকে সকল দখলদার-মাছপ্রকল্প-সুইসগেট-বাঁধ-স্বল্প দৈর্ঘ্যের সেতু অপসারণ করতে হবে অবিলম্বে।

জাতিসংঘ পানি প্রবাহ আইন ১৯৯৭ ও হাইকোর্টের সকল রায় মেনে, সকল নদীর সীমানা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নদী রক্ষা না হলে দেশ রক্ষা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী নদী রক্ষায় তার দৃঢ় প্রত্যয় বার বার প্রকাশ করেছেন। নদী রক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে, তারা আন্তরিক থেকেও নির্বাহী ক্ষমতার অভাবে খুব বেশি কিছু করতে পারছেন না। আমাদের প্রয়োজন নির্বাহী ক্ষমতা সম্পন্ন একটি শক্তিশালী নদী কমিশন। তবে আমাদের উচ্চ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্ত্বা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, অতএব এই সত্ত্বার ভালভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করাও সরকার সহ আমাদের সকলের দায়িত্ব।

বাস্তবতা হচ্ছে আমরা আজ ব্যাপক নদী বিপর্যয়ের শিকার। অধিকাংশ নদীই নাব্যতা হারিয়েছে। ১৯৭১ সালের তুলনায় আমাদের শীতকালের মোট নদীপথ ৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশ মূলত গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর পলি মাটি দিয়ে গঠিত একটি বদ্বীপভূমি। একাদশ শতাব্দিতে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার। নদীগুলো ছিল প্রশস্ত, নদীর গভীরতা ছিল, বর্ষাকালে এসব নদী থাকতো প্রমত্তা। এখন সে অবস্থা আর নেই। সারা বছর নাব্যতা থাকে এমন নদীর সংখ্যা এখন সর্ব সাকুল্যে ২৩০টি।

জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর কার্যনির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের দেশে কলকারখানাগুলোই নদী দূষণের প্রধান উৎস। ২০০৮ সনের এক সরকারী গবেষণায় এ তথ্য জানা যায়। এসব থেকে নানারকম দীর্ঘস্থায়ী বিষাক্ত তরল দূষক পরিবেশের সীমাহীন ক্ষতি সাধন করে চলছে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত ৯টি দীর্ঘস্থায়ী জৈব দূষক এলড্রিন, ক্লোরডেন, ডিডিটি, ডাইএলড্রিন, এনড্রিন, হেপ্টক্লোর, হেক্সাক্লোর বেনজিন, মিরেক্স ও টক্সাফেন। এগুলো ১৯৯৮ সনে সারা বিশ্বে নিষিদ্ধ হলেও এর ৭টি বাংলাদেশে এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: তুচ্ছ তুচ্ছ কারণে বাড়ছে অপরাধ ও খুন

আজ ১৪ মার্চ, আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস বা আন্তর্জাতিক নদী রক্ষায় করণীয় দিবস। সারা বিশ্বে বেসরকারি পর্যায়ে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। নদীর প্রতি আমাদের করণীয়? নদী রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব, কতটুকু দায়বদ্ধতা? এটি উপলব্ধি ও স্মরণ করিয়ে দিতেই এমন দিবস পালনের সূচনা। দিবসটি উপলক্ষে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও নানা কর্মসূচি পালন করে। ১৯৯৭ সালের ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিতে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে এক হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। ব্রাজিল, তাইওয়ান, চিলি, আর্জেন্টিনা, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই সম্মেলনে অংশ নেন প্রতিনিধিরা। ওই সম্মেলন থেকেই ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *