পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি মুখ থথুবড়ে পড়ি পড়ি করছে। এইসময়ে করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব উত্তরণে চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি একথা জানান।
নির্ধারিত চারটি কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—১. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা। এ ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। ২. আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য। ৩. সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। ৪. মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা। অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বাড়ানো হবে, যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ আজ ঘরবন্দী। কোথাও লকডাউন, কোথাও গণছুটি আবার কোথাও কারফিউ জারি করে মানুষকে ঘরবন্দী করা হয়েছে। বাংলাদেশেও একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ হয়েছে। দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোটখাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। আমদানি-রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিট্যান্স–প্রবাহে। এই সংকট কত দিন থাকবে এবং তা অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তা জানা নেই। তবু সরকার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।


