নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারের ৪ জেনারেল

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারের ৪ জেনারেল

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারের ৪ জেনারেল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: আফ্রিকার ছোট্ট একটা রাষ্ট্র গাম্বিয়া। নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে মিয়ানমারকে। বাধ্য করেছে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে। যদিও তুরস্ক ও পাকিস্তান সেখানে গাম্বিয়ার পেছনে নেই। এবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় মিয়ানমারের চার শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইংয়ের নামও রয়েছে। খবর বিবিসির।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থাকায় এই চার সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেয়া আগের চাইতেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন সময় এই নতুন নিষেধাজ্ঞা সামনে এলো যখন গণহত্যার অভিযোগে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছে মিয়ানমার। এর আগেও এই চার সেনা কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকলেও এবারের নিষেধাজ্ঞার মাত্রা ও গুরুত্ব আগের নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের পক্ষ থেকে যে চারজনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন অং হ্লেইং এবং তার ডেপুটি সো উইন।

এছাড়া উ এবং অং অং নামের আরো দু’জন বিভাগীয় কমান্ডারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসেও এই চার সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

সে সময় এই চার সেনা কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
২০১৭ সালে ইন দিন গ্রামে বিচার বহির্ভূত হত্যার প্রমাণ পাওয়ার পরও ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

তবে সে সময়ের নিষেধাজ্ঞাকে অনেকটাই প্রতীকী বলে ধারণা করা হয়েছিল। এবার এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এর ফলে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব ধরণের সম্পদের ব্যবহার স্থগিত করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তারা জড়িত হতে পারবেন না।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সেনাবাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণকে তারা সমর্থন করে। দ্য হেগ শহরের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যায় সে দেশের সামরিক বাহিনীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেশ করার পরদিনই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি দ্য হেগের আদালতের কার্যক্রমে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বুধবার বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে তার।

গত বছর রাখাইনে গণহত্যা ও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো সহিংসতায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভূমিকা জাতিসংঘের এক রিপোর্টে উঠে আসার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রধানসহ কয়েকজন ঊচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট বাতিল করে ফেসবুক।

সেসময় রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের মত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো জাতিসংঘের রিপোর্টে উঠে আসে এবং সেনাপ্রধানসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করার কথা বলা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *