দখলমুক্ত হোক নদী
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নদী নিয়ে কথা বললেই দখলে দূষণে ভারাক্রান্ত এক গল্পের নাম। নদনদী সুরক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে এখনো তৎপরতা দেখা যায় না। নদী বেদখল হচ্ছেই। দূষণে প্রাণ হারাচ্ছেই সেই নদনদী। রাজধানীর প্রাণ বুড়িগঙ্গা, ধলেশ^রী, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদী। এই নদীগুলোর সুরক্ষায় আমাদের অবদান কতটুকু। একবার কি চিন্তা করে দেখেছি। অথচ বাংলাদেশকে বলা হয় নদীর দেশ। দুনিয়ার কোনো দেশে বাংলাদেশের মতো এত নদ-নদী, হাওড়-বাঁওর, হ্রদ-খাল জলাশয়ের অস্তিত্ব নেই। তারপরও নদ-নদীর অস্তিত্ব নিয়ে গভীর সংকটে পড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
দেশের অভিন্ন ৫৪টি নদ-নদীর ৫৩টির উৎস ভারত বা চীন হওয়ায় বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। এটা এ দেশের জন্যই দুর্ভাগ্য। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্কের অভাব না থাকলেও পানি ইস্যুর স্পর্শকাতরতার জন্য সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো এ মুহূর্তে পাঁচ ধরনের বড় সংকটের সম্মুখীন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে উজানে পানি প্রত্যাহার, দেশের অভ্যন্তরে দখল, দূষণ, ভাঙন ও বালু উত্তোলন। আশার কথা নদ-নদী বাঁচাতে সরকারের শীর্ষ মহল দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় নগর-সংশ্লিষ্ট নদীগুলোতে চলছে দখল উচ্ছেদ অভিযান। অতীতের রেকর্ড যাই হোক, এবারের উচ্ছেদ অভিযান টেকসই হবে বলে আশাও করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে ঢাকা নদীবন্দরের আওতাধীন তিন নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালুতে ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫০ কর্মদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দুই তীরের ১৫৭ কিলোমিটার এলাকায় চার হাজার ৪৭২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। নদীর ভূমি দখলমুক্ত হয়েছে ১২১ একর। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সম্প্রতি ৬৪ জেলায় ৪৬ হাজারের বেশি দখলদারের তালিকা প্রকাশ করেছে। নদী দখলমুক্ত করার উদ্যোগ থাকলেও দূষণ ও বালু উত্তোলন রোধে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বললেই চলে। গত এক দশকে ভাঙন রোধে সরকারের মনোযোগ যেমন বেড়েছে তেমন বেড়েছে বরাদ্দ। এ-সংক্রান্ত প্রকল্পে নজরদারি বেড়েছে প্রশংসনীয়ভাবে।
গত ৭ বছরে ৯১৫ কিলোমিটার নৌপথ পুনরুদ্ধার হয়েছে। দেশের দুই বৃহত্তম নদী পদ্মা ও যমুনা ঐতিহ্যগতভাবে ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এই দুই নদীর তীর সুরক্ষায় বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর ফলে নদীর নাব্যতা বাড়বে। পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ভাঙন ঠেকানোর জন্য সবার আগে তীর সংরক্ষণ জরুরি। তীর রক্ষা করতে পারলে ভাঙন ঠেকানো কোনো বিষয়ই নয়। নদ-নদী সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি দেশের আইন আদালতও সক্রিয়তা দেখিয়েছে। এটা ভালো খবর। ইতোমধ্যে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশের উচ্চ আদালত। এ পদক্ষেপ নদ-নদী সুরক্ষায় বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে। দেশের নদনদীকে বাঁচাতে, স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর বিকল্প আর কিছুৃ নেই।
ইনসার্ট : দেশের দুই বৃহত্তম নদী পদ্মা ও যমুনা ঐতিহ্যগতভাবে ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এই দুই নদীর তীর সুরক্ষায় বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর ফলে নদীর নাব্যতা বাড়বে। পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ভাঙন ঠেকানোর জন্য সবার আগে তীর সংরক্ষণ জরুরি। তীর রক্ষা করতে পারলে ভাঙন ঠেকানো কোনো বিষয়ই নয়। নদ-নদী সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি দেশের আইন আদালতও সক্রিয়তা দেখিয়েছে


