নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভাঙনে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙনের কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির ঘটনায়ও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি এখন থেকে ভাঙনকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সহায়তা নিয়ে দাঁড়াতে মন্ত্রী, স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, এমন একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, নদীভাঙনের ভয়াবহতা বিষয়ে কেউ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে নদীভাঙন কবলিত এলাকার এমপি, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাদ্র মাস সবে শেষ হলো।

ভাদ্র মাসে নদীর পানিতে টান ধরে। এ সময় নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটে। যা প্রাকৃতিক। তবে কোন এলাকায় নদীভাঙন হবে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না। তারপরও দেশের যেসব এলাকা নদীভাঙন কবলিত হিসেবে আগে থেকে চিহ্নিত রয়েছে, সেসব এলাকায় নদীভাঙন রোধে পূর্ব-প্রস্তুতি নেওয়ার উচিত ছিল। কিন্তু সে রকমভাবে কোনও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।’ এজন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিকসহ সব ধরনের  সহায়ো দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকমাস ধরে ব্যাপক নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। পদ্মানদীর ভাঙনে নড়িয়ার কেদারপুর, মোক্তারের চর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরনো স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ইতোমধ্যেই পদ্মার বুকে বিলীন হয়ে গেছে। শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার ভাঙনে এ পর্যন্ত সেখানে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। আরও ঝুঁকিতে রয়েছে ৮ হাজার পরিবার। দেশের উত্তরাঞ্চলেরও বেশ কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিলিন হয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে নিঃস্ব হওয়া হাজার হাজার পরিবার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *