‘নবীজী মূর্তি ভেঙেছেন, কিন্তু পদ্ধতি কেমন ছিল সেটা জানতে হবে’

‘নবীজী মূর্তি ভেঙেছেন, কিন্তু পদ্ধতি কেমন ছিল সেটা জানতে হবে’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নবীজী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা তাঁর ৬৩ বছরের জীবনে মূর্তি ভেঙেছেন, কিন্তু পদ্ধতি কেমন ছিল সেটা আমাদের জানতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, নবুয়ত লাভের পর নবীজী কখনো মূর্তি ভাঙার জন্য বাইতুল্লার শরীফের সামনে গিয়ে মিছিল, মিটিং, আন্দোলন, বিক্ষোভ ও জোর গলায় কথা বলেননি। বরং তিনি অন্তর তৈরি কাজ করেছেন। হৃদয়ের মূর্তি আগে ভাঙার চেষ্টা করেছেন। যখন তাদের অন্তর মুমিন হয়ে গেলো, ইসলামে যে কোন কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলো, তখন নবীজী যা বলেছেন, তারা সেটা করেছেন এবং মক্কা বিজয়ের পর বাইতুল্লাহ শরীফের মূর্তিগুলো ভেঙেছেন।

শুক্রবার (০৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর খিলগাঁও ইকরা বাংলাদেশ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার বয়ানে সাইয়্যিদ মাওলানা আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

নিজেদের মন মত করে দ্বীন কায়েমের জন্য আন্দোলন করা যাবে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, নবীজীর ৬৩ বছরের জীবনকে সামনে রেখে, নবীজীর দ্বীন কায়েমের পদ্ধতিকে সামনে রেখে বর্তমানেও দ্বীন কায়েমের জন্য কাজ করতে হবে। নবীজী ও সাহাবায়ে কেরামের পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে ভিন্ন দেশি-বিদেশি কালচার অবলম্বনে করে দ্বীন কায়েমের জন্য আন্দোলন করলে, সেই আন্দোলন কখনো সফল হবে না। দ্বীনও কায়েম হবে না।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, আমাদের দেশের উলামায়ে কেরাম যেভাবে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন, যে পদ্ধতিতে আন্দোলন করেছেন, সেই পদ্ধতি নবীজীর দেখানো পদ্ধতি নয়। যার কারণে তারা সফল না হয়ে সরকার দলীয় লোকের জেদ আরো বাড়িতে দিয়েছেন, তাদেরকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনে কর্ম পদ্ধতি নবীজীর দেখানো পন্থা অনুযায়ী না হওয়ার কারণে কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আমরা কাদিয়ানীদের দমাতে পারিনি, বরং তাদের সংখ্যা আরো বেড়েছে। শুধু কাদিয়ানী না, প্রতিটা ফেরকা ও ফেতনার ক্ষেত্রে একই অবস্থা।

দ্বীন ও ইসলামের জন্য যে কোনও আন্দোলনে নবীজীর ৬৩ বছরের জীবনকে সামনে রেখে, নবীজীর দ্বীন কায়েমের পদ্ধতিকে সামনে রেখে বর্তমানেও আন্দোলন করার আহ্বান জানান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *