নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দরূদ : আল্লামা মাসঊদ

নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দরূদ : আল্লামা মাসঊদ

নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দরূদ : আল্লামা মাসঊদ

পাথেয় রিপোর্ট : নবীপ্রেমের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দরূদ উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেছেন, দরুদ শরীফ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ। আমাদের পেয়ারে নবীজী হযরত মুহাম্মদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তাঁর উপর দরূদ প্রেরণ করা।

আল্লামা মাসঊদ বলেন, পবিত্র কুরআনুম মাজীদের পরেই দরূদ শরীফের মর্যাদা। হাদীস শরীফে দরূদ পড়ার পদ্ধতি, উপকারিতা, না-পড়ার ক্ষতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ আছে, পবিত্র কোরআনেও এর ব্যাপক তাগিদ দেয়া হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীজী ওপর দরূদ প্রেরণ করেন। নবীজী উপর বেশি বেশি দরূদ প্রেরণ করার কথা বলেন তিনি।

রোববার (৩০ জুন) বাদ এশা জামিআ মাদানিয়া আসআদুল উলূম মাদানীনগর মিলনায়তনে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা খুলনা জেলা শাখা আয়োজিত ইসলাহী ইজতেমার ইসলাহী বয়ানে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।

মানুষের অন্তরে কষ্ট দেয়া ও হক নষ্ট না করার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, কারো হক নষ্ট করা, কারো অন্তরে কষ্ট দেয়া ইসলামে সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা ইবাদত-বন্দেগী করে, কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করে। সত্যিকার মুসলমান কাউকে কষ্ট দিতে পারে না এবং কারাও কষ্টের কারণও হতে পারে না।

প্রত্যেকটা নেক কাজের আলাদা আলাদা সুগন্ধি আছে মন্তব্য করে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, মানুষ যখন কোন নেক কাজ করে, তখন এই নেক কাজের সুগন্ধি ছড়ায়। আমাদের নাক বন্ধ, তাই আমরা পাই না। কিন্তু ফেরেশতারা এই নেক কাজে সুগন্ধি পায়। তারা এই সুগন্ধি পেয়ে আল্লাহ কাছে দুআ করে- ‘হে আল্লাহ তোমার অমুক বান্দা নেক কাজ করে আমাদেরকে সুগন্ধি দিয়েছে। আমাদেরকে শান্তি দিয়েছে। তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দাও।

তিনি বলেন, প্রত্যেটা গুণাহের কাজেরও আলাদা আলাদা দুর্গন্ধ আছে। মানুষ যখন মিথ্যা বলে, গীবত করে, জিনা-ব্যভিচার করে, বিভিন্ন ধরনের গুণাহে লিপ্ত হয়, তখন মানুষের শরীরে, বাতাসে এসব পাপাচারে দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর ফেরেশতারা দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে দুআ করে বলে- ‘হে আল্লাহ ওরা আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে। মিথ্যা কথা বলে বেড়েচ্ছে। তুমি তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করো।’

সমস্ত আম্বিয়া কেরামের কলব সবসময় আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত ছিল জানিয়ে আল্লামা মাসঊদ বলেন, মানুষের চালিকা শক্তি কলব। কলব ভালো হলে মানুষ ভালো কাজ করে, কলব খারাপ হয়ে গেলে মানুষ খারাপ কাজ করে। আম্বিয়া কেরাম দুনিয়ার সব কাজ করতেন, কিন্তু তাদের কলব সবসময় আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তিনি বলেন, বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগী, জিকির-আজকার করে কলবকে আল্লাহ সাথে সম্পৃক্ত করতে। কলবে আল্লাহকে স্থান দিতে হবে।

ইসলাহী বয়ানের আগে ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *