নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে; নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবিদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে; নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবিদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাখনৌয়ের দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলমান প্রসঙ্গে ভারতের জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সাইয়্যিদ সাআদাতুল্লাহ হুসাইনির আহবানে মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবিদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মারকাজে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি মাওলানা হাকিমুদ্দীন কাসিমী, মাওলানা তৌকির রেজা খান, মাওলানা শীস তাঈমী, ড. মুহাম্মাদ মনজুর আলম, ড. যফরুল ইসলাম খান, জনাব নাভেদ হামিদ, ড. সাইয়্যিদ কাসিম রসুল ইলয়াস, জনাব মুহাম্মাদ জাফরসহ প্রমুখ ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত সবার সম্মতিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

১. এ বৈঠক সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের প্রতি তীব্র নিন্দা জানায় এবং পাশ হওয়া এ বিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ভারতীয় নীতিমালার মৌলিকত্ব বিরোধী বলে বিশ্বাস করে। এ আইনের বিরোধিতা ও তা অপসারণে দাবীতে দেশের সকল ন্যায়বিচারকামী মানুষের কাছে সরকারকে চাপ প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়।

২. এ বিলের প্রতিবাদে আন্দোলনরত জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করে এ বৈঠক তাদের সাখে একাত্মতা পোষণ করছে।

৩. শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী ও হোস্টেল-লাইব্রেরিতে জোরপূর্বক ঢুকে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের নির্যাতনের কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এ বৈঠক অবিলম্বে তাদের হঠকারিতাকে তদন্তের আওতায় এনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানায়।

৪. এ বৈঠক বিরাধীদের চক্রান্তের শিকার হয়ে বিক্ষোভকারীদের হিংস্র হওয়া ও পথচ্যুত না হওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ সজাগ দৃষ্টি রাখার আবেদন জানায়।

৫. এ বৈঠক প্রত্যয়ন করে, আমরা সকল মতাদর্শী ও এক হয়ে ন্যায়বিচারকামী অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সাথে নিয়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে অবিলম্বে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করবে।

এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অফিসাররা দেওবন্দের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং আইন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য দারুল উলূম দেওবন্দসহ দেশের সব মাদরাসায় ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছেন। তবে সরকারের এ আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছে দেওবন্দ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষনিকভাবে মাদরাসা না ছাড়তেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, ‘প্রশাসনের গোপন পরিকল্পনার বিষয়ে শুরার সদস্যদের অবহিত করা হবে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শুরার একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় মাদরাসাগুলো ছুটির দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

সূত্র : মিল্লাত টাইমস, নিউজ ডাইজেস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *