নির্যাতন বন্ধ না হলে পরিণাম ভয়ঙ্কর : জাতিসংঘ মহাসচিব

নির্যাতন বন্ধ না হলে পরিণাম ভয়ঙ্কর : জাতিসংঘ মহাসচিব

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক ● জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারপ্রধান অং সান সু চির জন্য এখনই শেষ সুযোগ। তিনি বলেছেন, দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে যে হাজারে হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, তা বন্ধের জন্য সু চির হাতে এখনই শেষ সুযোগ। না হলে এই ট্র্যাজেডি হবে সত্যিই ভয়ঙ্কর। সু চিকে সতর্ক করে অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গাবিরোধী এই সংঘাত বন্ধ না হলে তা জাতিগত নিধন হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে, মিয়ানমারের দাবি, গত মাসে রাখাইন রাজ্যে যে জঙ্গি হামলা হয়েছে, তার জবাব দিচ্ছে সেনাবাহিনী। বেসামরিক লোকজন তাদের টার্গেট নয়। রাখাইনে পুলিশ ও সেনাচৌকিতে হামলার পর তথাকথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার দাবি করে আসছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে বিবিসির হার্ডটক অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেছেন, মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার সময় সু চির জন্য রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধের ঘোষণা দেয়ার শেষ সুযোগ।
গুতেরেস বলেন, তিনি যদি এখনই পরিস্থিতি না পাল্টান, তাহলে আমি মনে করি, এই পরিস্থিতি সত্যিই ভয়ঙ্কর হবে এবং দুভার্গ্যজনকভাবে বলতে হচ্ছে, ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিস্থিতি পাল্টাবে, তা আমি বুঝতে পারছি না।

জাতিসংঘ মহাসচিব আবারও বলেছেন, মিয়ানমারের উচিত রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়া। তিনি বলেন, এটি পরিষ্কারÑমিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো দেশেটির সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক। রাখাইনে তারা যা করছে, তাই করতে দেওয়াতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। জান্তা সরকারের হাতে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকা শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের বিষয়ে চুপ থাকায় আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর সমালোচনার মুখে রয়েছেন। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। তার বক্তব্যের দিকে চেয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

এরআগে রাখাইনের পরিস্থিতির ওপর কথা বলেছেন সু চি। তার দাবি, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যাপকভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সংকটকে আরো ঘনীভূত করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের স্বার্থে ভুল তথ্য চাউর করা হচ্ছে।
শনিবার জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানায়, ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ৪ লাখ ৭ হাজার রোহিঙ্গা। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, রোহিঙ্গারা যাতে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য তাদের চলাফেরার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। নির্ধারিত স্থানের বাইরে তাদের যেতে না দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ৪ লাখ রোহিঙ্গার জন্য বিশাল আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *