নো চিকিৎসা, নো কবর, নির্দয় এক জাতীর উপাখ্যান

নো চিকিৎসা, নো কবর, নির্দয় এক জাতীর উপাখ্যান

নো চিকিৎসা, নো কবর, নির্দয় এক জাতীর উপাখ্যান

মুহাম্মদ আইয়ূব ❑ আগামি দশদিন শহরে পানি থাকবে না, আপনার কাছে দশ লিটার পানি আছে। একজন পিপাসার্ত ব্যাক্তি পানির তাড়নায় মারা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় আপনাকে মিনতি করে বলছে, মাত্র এক ঢোক পানি দিতে। আপনি কি দেবোন? মনে হয় না দেবেন! বাঙালি বলে কথা! ও মরলে মরুক, আমার পানি অন্যকে দিব কেন? আমার বাঁচতে হবে না! আগে নিজে বাঁচি তারপর দেখা যাবে।

পাঠক, এমন ঘটনা ঘটেছে বিধায় বললাম। একজন সাচ্চা মুসলমান থেকে এমন আচরণ কস্মিনকালেও কাম্য নয়। অথচ এ কাজটাই আমরা বাঙালি মুসলিম জাতী, অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার যাত্রীরা চিকিৎসা ও দাফনের মত মানবিক জায়গায় সফল ভাবে করে দেখালাম বিশ্ববাসীকে। আবার আমরাই মসজিদে জামাত চালু রাখার ব্যাপারে ফাল পাড়ি!! ধিক, বাঙালি মুসলিম ধিক!!!

নববী আর সাহাবী আদর্শের সাথে এর কোন মিল আছে? তাহলে তোমরা কার চেতনায় উজ্জীবিত ওহে মুসুল্লি! ইহুদি, খৃষ্টান, বৌদ্ধ? এর কোন একটার হলেও কিছুটা আশ্বস্ত হতাম, কারণ জ্যাক মা’র কোন আখেরাত-পরকাল নাই। তারপরও আমার তোমার এই দেশকে মাস্ক, কিট, স্যানিটাইজার ইত্যাদি সামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সারা চীন থেকে সেচ্ছাসেবীরা উহানে গিয়ে যখন জীবনের মায়া ত্যাগ করে দিন-রাত আক্রান্তদের সেবা দিয়েছে, সেখানে ডিয়াবাড়ি উত্তরার জনগণ রাস্তায় নেমেছে তাদের এলাকাতে করোনা চিকিৎসার হাসপাতাল বন্ধ করতে। ব্রিটিশ, স্প্যানিশ, কানাডিয়ান, ফ্রেঞ্চ, জার্মান আর ইতালিয়ানরা যখন স্বজনহারাদের স্বান্তনায় ব্যস্ত, তখন সোনার দেশের সোনার আশেকে রাসূল, নারায়ে তাকবীর, দ্বীন ইসলাম জিন্দাবাদ স্লোগানধারী বাঙালি মুসলিম তাওহিদি জনতা, রামপুরা-খিলগাঁওবাসীরা করোনা মৃতদের তালতলা কবরস্থানে দাফন না করতে ব্যানার টাঙায়।

আমরা একেকজন মস্ত বড় আশেকে রাসূল। মহামারি আর দূর্যোগে মসজিদে জামাত কায়েমের দুর্বার আন্দোলনের জন্য ঢলে পড়তে। মিটিং মিছিল করতে জানি, অথচ একথাগুলো কি আমরা জানি?

১. হযরত আবু মুসা আশআরী (রা:) বলেন, রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও,অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশুনা করো এবং বন্দীকে মুক্তি দাও। [মেশকাত শরীফ- ১৪৩৭, এটা বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে।]

২. হযরত ছাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান যখন তার অসুস্থ মুসলমান ভাইকে দেখতে যায়, তখন সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল বাগানে বিচরণ করতে থাকে। [মেশকাত শরীফ- ১৪৪১, হাদীসটি মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে।]

৩. হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা মৃতদেরকে মন্দ বলো না। কেননা তারা যা করেছে তার ফল পেয়েছে। [মেশকাত শরীফ-১৫৭৫, হাদিসটি বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে।]

এরকম দলিল কুরআন হাদিস থেকে একশোটা দেওয়া যাবে, যেখান থেকে এটা প্রমাণিত হবে যে, আমরা এখন নিজেদের জীবন বাঁচাতে যা করছি তা বর্বরতা, মনুষ্যহীনতা, নির্দয়তা, স্বার্থপরতা, বিবেকহীনতা, পাষবিকতা সর্বোপরি দ্বীনহিনতার পরিচয়। আসুন নেক ও এক হই। মানবিক বাংলাদেশ গড়ি।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *