পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারতের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন হবে ২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিলে। সেই হিসাবে এখনো প্রায় দুই বছর বাকি। তবে পশ্চিমবঙ্গের দুই শক্তিশালী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতাদের মধ্যে আসন পাওয়া নিয়ে কথার লড়াই শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ লোকসভার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। ওই বছর রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পায় ২২টি আর বিজেপি জিতেছিল ১৮টি আসনে। কংগ্রেসের ভাগ্যে জুটেছিল দুটি আসন। বাম দলকে ফিরতে হয়েছিল শূন্য হাতে।
তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, বিজেপি এবার দুই আসনে জিতবে কিনা সন্দেহ। বিজেপিকে নির্বাচনে শূন্য হাতেও ফিরতে হতে পারে। তৃণমূলের নেতা, কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ কথা বলেছেন গতকাল শনিবার। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, বিজেপিকে এ রাজ্যে শূন্য করে দেওয়া।’
একই দিনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে জয়ী হবে বিজেপি।
ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বিজেপি ২৫টি আসনে জিতবে—এমন কথা সুকান্ত মজুমদার কি লিখে দিতে পারবেন? ২৫টি আসন না পেলে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন? আর না পেলে কি কান ধরে ওঠবস করবেন? বিজেপি এবার বড়জোর এক থেকে দুই আসন পেতে পারে। আমরা চেষ্টা করব সেই সংখ্যাটা শূন্যে নামিয়ে আনার।’
ফিরহাদ হাকিমের এ মন্তব্যে চটেছেন সুকান্ত মজুমদার। শনিবার রাতেই তিনি টুইট করেছেন, ‘কে এই ফিরহাদ হাকিম? উনি কি পশ্চিমবঙ্গের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা? উনি কি ভুলে গেছেন, ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির কথা। তখন তো মমতা সব আসন পাওয়ার ধুয়ো তুলেছিলেন। সেই কথা শুনেই তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা বিজেপিবিরোধী ঝড় তুলেছিলেন। কার্যত ৪২ নয়, তাঁরা পেয়েছিলেন ১৮ আসন। চব্বিশে বিজেপির আসন ১৮ থেকে ২৫ হলে অবাক হওয়ার কারণ থাকবে না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘গত ২০১৯ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের এমপি ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে নেমে সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর আসনে তৃণমূল প্রার্থী দুই লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে না জিতলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন? কিন্তু অভিষেক কি রাজনীতি ছেড়েছেন? জয় তো দূরের কথা তৃণমূলের প্রার্থী হেরেছিলেন। বিজেপির প্রার্থী অর্জুন সিং পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৪ ভোট। আর তৃণমূলপ্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ১৩৭ ভোট। ফলে পার্থক্য কিন্তু দুই লাখ হয়নি। তৃণমূল না জিতে বরং ১৪ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিল।’


