পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা সহ্য করবো না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ● প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আর যাই সহ্য করা হোক পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা তিনি সহ্য করবেন না। প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের বিচার জনগণের কাছে চেয়ে বলেছেন, এই হুমকি তাকে দিয়ে লাভ নেই। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্মরণে সোমবার বিকালে রাজধানীর কৃষি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক আলোচনায় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ১৩ বছর আগের গ্রেনেড হামলা ছাড়াও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের রায় নিয়েও দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কথা বলেন, রোববার উচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট প্রকাশের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি সেখানে ধৈর্যর কথাই বলা হল। আমরা ধৈর্য ধরেছি। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি।

আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার। শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির কথা উল্লেখ করে আরো বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যাকে নিয়োগ দিলেন তিনিই আবার রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন। দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা ও পক্ষ নেয়া প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যদের নিয়ে যে বৈধতা ও অবৈধতার প্রশ্ন এনেছেন এ ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে না। কথাগুলো পর্যবেক্ষণে লেখার আগে এ পদ থেকে ওনার সরে যাওয়া উচিত ছিল। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার শুরুতেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর ২১ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বসার মাইজভান্ডারী, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর যাই হোক পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন তুলনা সহ্য করা হবে না। সুতরাং পাকিস্তানে কী হয়েছে না হয়েছে সে বিষয়ে কোন হুমকি দেবেন না। এটা সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে আর কেউ ক্ষমতা দখল করতে পারবে না। যদি কেউ সে চেষ্টা করে সংবিধান অনুযায়ী তার বিচার হবে। পাকিস্তান রায় দিল বলে (প্রধানমন্তী পদে নওয়াজ শরিফের ক্ষমতায় থাকা অবৈধ ঘোষণা) কেউ ধমক দিল, আমি জনগণের কাছে বিচার চাই। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে অপমানজনক আজকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা। যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধে হারিয়েছি, যুদ্ধে হারিয়ে বিজয় অর্জন করেছি। অনেকেই পাকিস্তানের দালালি করেছে। জনগণের আদালত বড় আদালত, জনগণের আদালতকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না মন্তব্য করে জনগণের কাছে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের জন্য বিচার দেন শেখ হাসিনা। প্রধানন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান রায় দিল দেখে কেউ ধমক দেবে, আমি জনগণের কাছে বিচার চাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *