পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশুদের শৈশব ধংসকারী হিসেবে পিইসি পরীক্ষাকে চিহ্নিত করে একে বাতিলের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। এ পরীক্ষা বাতিল হলে প্রশ্নফাঁসের মতো অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে বলেও তারা মনে করে।  শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, এই বছর এ দাবির পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যপক সাড়া পাওয়া গেছে। পিইসি পরীক্ষা চালুর ফলে প্রত্যেকটি পরিবারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কেননা ক্লাস ফাইভে উঠতে না উঠতে একটি শিশুর লক্ষ্য হয়ে যায় ‘এ প্লাস’ পেতে হবে। আর এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কোচিং চালু হয়েছে, যা একপ্রকার বাধ্যতামূলক পর্যায়ে চলে এসেছে। আর কোচিং সেন্টারগুলোর জনপ্রিয়তা অর্জনের লক্ষ্যে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘৃণ্য কাজের মাধ্যমে এ প্লাসের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাছাড়া স্কুলের পর আবার কোচিংয়ের কারণে শিশুদের খেলাধুলা, মা-বাবার সঙ্গ উপভোগ, গল্পের বই পড়ার মতো সুকুমার বৃত্তি চর্চার কোনও পথই খোলা থাকে না পঞ্চম শ্রেণির একটি বাচ্চার জন্য। যেটা মানসিক বিকাশের জন্য একটি শিশুর ওই বয়সে অনেক বেশি প্রয়োজন।

প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এ প্লাস পাওয়ার পরও প্রাথমিক শিক্ষারই মান কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর এ প্লাস পেলেও শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। ফলে চাকরির বাজারে যোগ্যতাহীন গ্রাজুয়েট, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় হাহাকারসহ গা বাঁচাতে প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটছে। কেননা ছাত্ররা শুধু কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আর এ কারণে তাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া দেশের নিন্মবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য মারাত্মক খারাপ একটি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমে। তাই শিশুকাল থেকে শিশুর মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে বা যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাইমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা, জিগাতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসহাক সরকার, শিক্ষা ও শিশুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক রাখাল রাহা, মঞ্জুরুল হক, দিলারা জামান প্রমুখ।

_____________

patheo24/105

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *