মুহাম্মাদ আইয়ুব : আমাদের পাশের বাড়ির রুনুর মা। একজন মানুষের শয়তান হতে যত রসদ দরকার, সব রসদই রুনুর মা’র দখলে।
মাস ছয়েক আগের কথা। তার নিকৃষ্ট এক আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে একবার আমি তার নাম নিয়ে আমার মায়ের কাছে বলেছিলাম মহিলাটা আস্ত একটা শয়তান। আশ্চর্যজনকভাবে রুনুর মা আড়াল থেকে আমার কথাটা শুনে ফেলে! তারপর আমার দিকে তেড়ে এসে আচ্ছামত গালাগাল শুরু করে দিল। পুরো গ্রামে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গার দশা। জনমের মতো তওবা করেছি প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে আর কাউকে এভাবে বলব না।
এবার আসি প্রসঙ্গে- সূরা আনআমের ১০৮ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদাত (পূজা-অর্চনা) করে তোমরা তাদেরকে গালাগালি করো না, তাহলে তারা অজ্ঞতা বশতঃ বৈরীভাবে আল্লাহকেই গালাগালি দিতে শুরু করবে।’
উক্ত আয়াতটির তাৎপর্য, মর্ম কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ভাবনার বিষয় তা নিয়ে বোধহয় বাংলাদেশের বর্তমান ও গত প্রজন্মের উলামায়ে কেরাম খুব কমই মাথা ঘামিয়েছেন। নইলে কওমি অঙ্গনটা কেন উগ্রবাদীদের দখলে চলে গেল, যারা সকাল সন্ধ্যা নাস্তিক নাস্তিক ধুয়ো তুলে দেশটাকে অশান্ত করতে তৎপর!
যাই হোক বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে দেশ উত্তপ্ত। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার টিএসসিতে হয়ে গেল স্মরণকালের সবচেয়ে অবাক করা মৌলবাদ বিরোধী কনসার্ট। যেখানে কওমী উলামায়ে কেরামদেরকে সরাসরি রাজাকারদের কাতারে নিয়ে ফেলা হয়েছে। যারা একদিন ‘ফালাবার ফথ ফাবেনা’র’ দশায় ছিল আজ তারাই সারা দেশে অগ্নি ঝরা বক্তাদের একপ্রকার অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
‘ভেসে যাই চরমোনাই’ আল্লামা বাবুনগরী সাহেবের মুখে দুধের ফিডার ধরিয়ে দিয়ে ‘বাবু খাইছো’ লেখা সম্বলিত ফেস্টুন, মাওলানা মামুনুল হক সাহেবকে বাঁশের মাথায় বসিয়ে বাঁশ মামুন মূলক ছবি সত্যিই আমাদের কলিজায় আঘাত করেছে।
‘টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেব, বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিব, রক্তের বন্যা বসিয়ে দেব’
রাজাকারদের সাথে কৃত আচরণ সময়ের পরিক্রমায় শায়খুল হাদীসদের কপালেও জুটছে। কিন্তু কেন? শুধুমাত্র আলোচিত আয়াতকে সামনে না রাখার কারণে।
আজ যদি আমাদের মাহফিলগুলো থেকে অশালীন ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সম্পর্কে ‘টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেব, বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিব, রক্তের বন্যা বসিয়ে দেব’ মূলক বক্তব্য না আসত তাহলে টিএসসিতে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে হতো না।
ডাক্তার তার পেশেন্টকে ছুরি চাকু নিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয় না, বরং একটা সুনিয়ন্ত্রিত সিস্টেমের মাধ্যমে শান্তশিষ্টভাবে ছুরি চাকুর মাধ্যমে অপারেশন করে অসুস্থকে সুস্থ করে তোলে।
আজ ডাক্তার হয়ে আমার ভূমিকা কেন সন্ত্রাসীদের মতো হবে? তা কি আমাদের ভাববার সময় হয়নি? আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠুক প্রতিটি হৃদয়ে প্রতিটি প্রাণে, সচেতনতার চাদরে জড়িয়ে যাক প্রত্যেক উলামা তোলাবা। এই আশায়, এই প্রত্যাশায়…।
লেখক : খতিব, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক


