প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিলেন মুফতি রুহুল আমিন

প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিলেন মুফতি রুহুল আমিন

পাথেয় রিপোর্ট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে শুকরানা মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়েছেন আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিআাতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র সদস্য মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি ‘কওমি জননী’। আপনি না থাকলে সাহাবা ও আলেম-ওলামাবিরোধী জামায়াত-মওদুদীবাদীরা কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিতো না।

০৪ নভেম্বর রোববার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা ‘হাইআতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশ আয়োজিত শুকরানা মাহফিলে’ বক্তৃতাকালে মুফতি রুহুল আমিন এ উপাধি দেন।

শোকরিয়া মাহফিলে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফিকে স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো আলেমকে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়নি। অামি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাই অামাদের সবার নেতা, মাথার মুকুট, আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফিকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হোক।

মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতি হিসেবে ছিলেন হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফি।

আল্লামা শফির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান মাওলানা নুরুল আালম। তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠে বলেন, স্বীকৃতি স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অবদান ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা থাকবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই আজকের এই স্বীকৃতি। এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি পেয়ে আমরা সর্বপ্রথম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া অাদায় করছি। সেইসাথে অামরা শুকরিয়া অাদায় করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কারণ প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর এ নেয়ামত পেয়েছি।

শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে সারা দেশ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ইমামদের ঢাকায় আনা হয়েছে বলে জানা যায়। সকাল থেকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আসা শুরু করেন। তাঁদের বহনকারী বাস শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে রেখে তাঁরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে রওনা হোন। আর অনেকেই হেঁটেই পৌঁছান সেখানে।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমিল) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সংবর্ধনা দেয় আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী শুকরিয়া স্মারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *