প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের ইন্তেকাল

প্রবীণ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীরের ইন্তেকাল

পাথেয় রিপোর্ট : দেশের প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলে জানা যায়।

আমানুল্লাহ কবীরের ছেলে শাতিল কবীর জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য আমানুল্লাহ কবীরকে আগামী শুক্রবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। মঙ্গলবার হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তাঁর ডায়ালাইসিস করা যায়নি। লিভার ও কিডনির জটিলতার মধ্যে আমানুল্লাহ কবীরের হৃদরোগ ধরা পড়ে। ৭২ বছর বয়সী আমানুল্লাহ কবীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজে শোক নেমে এসেছে।

আমানুল্লাহ কবীর ১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর বার্তা সম্পাদক ছিলেন।

১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন সাংবাদিকদের রুটি-রুজি আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আমানুল্লাহ কবীর। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে এর আগে দায়িত্ব পালন করেন। সাড়ে চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বাংলা দৈনিক আমার দেশ এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের (বর্তমানে বিলুপ্ত) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।

ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এর আগে এসএম আলীর সম্পাদনায় প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের শুরুর দিকের বার্তা সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাংবাদিক নেতা আমানুল্লাহ কবীর অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি ছিলেন। সাংবাদিকতার সঙ্গে লেখালেখিতেও সক্রিয় ছিলেন অগ্রজ এই সাংবাদিক।

আমানুল্লাহ কবীর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী এই নেতা কয়েক বছর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দখলদারিত্বের সময় কতিপয় স্বার্থান্ধ ও ধুরন্ধরের খপ্পরে পড়ে বিতর্কে জড়ান। তখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনির্বাচিত দখলদার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছিল তাঁকে। বিডি নিউজে যোগদান ও টকশোতে কিছু বক্তব্য নিয়েও জাতীয়তাবাদী ঘরানায় খানিকটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ব্যক্তিগত জীবনে আমানুল্লাহ কবীর ছিলেন সৎ, সরলপ্রাণ, মৃদুভাষী ও সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন সোচ্চার। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় আমার দেশ পত্রিকা গভীর সংকটে পড়লে টালমাটাল পরিস্থিতির এক পর্যায়ে তিনি বিদায় নেন। এখানে আর্থিক সংকট চলাকালীন সবার পরে বেতন নিতেন তিনি। সরলতার কারণে প্রতারিতও হয়েছেন বহুবার। নব্বইয়ের স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে সাংবাদিক ইউনিয়নের ঐতিহাসিক সংগ্রামে অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে রাজপথ কাপিঁয়েছেন আমানুল্লাহ কবীর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *