নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মোট ৪২টি মহাসড়ককে প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারণ ওসব সড়কে প্রতি বছরই যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যান চলাচলে প্রায় নিয়মিতই দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থসামাজিক গুরুত্ব অনুসারে ১০ জোনের ৪২টি সড়ক সমানভাবে ২৪ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। ওসব সড়কের বর্তমান প্রশস্ততা ১২ থেকে ১৮ ফুট। যেগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। সেজন্য মোট ১০টি জোনে গুচ্ছ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। গুচ্ছ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ১০ জোনের মধ্যে ৮টি প্রকল্প ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেকে) অনুমোদিত হয়েছে। বাকি দুটিও অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৯টি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। শুধু চট্টগ্রাম জোনের কাজ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট সড়কের প্রায় ২০ শতাংশই আঞ্চলিক মহাসড়ক। বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ জোনে বিভক্ত করে আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিচালিত হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ১০টি জোনে মহাসড়ক নেটওয়ার্কে মোট আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে ১২৬টি। ওসব মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ২৪৭ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী মহাসড়কে নিরাপদ গাড়ি চলাচলে ন্যূনতম সাড়ে ১১ ফুট জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু গুচ্ছ প্রকল্পের আওতায় থাকা সড়কগুলোর বর্তমান প্রশস্ততা ১২ থেকে ১৮ ফুট। ওসব শুধু সড়ক প্রশস্ত করলেই হবে না। সড়কের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিতসহ প্রশস্ত করার সুবিধা পেতে হলে ভূমির সমন্বিত ব্যবহারের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও নজর দেয়া জরুরি।
সূত্র জানায়, দেশের মহাসড়কের মোট ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ততরণের পাশাপাশি ৭৮১ কিলোমিটার মজবুত করা হবে। তার বাইরে ১৯ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট, ৩৭টি সেতু, ১৩৪টি কালভার্ট, ১৮টি বাস-বে ও ৯টি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ। বর্তমানে ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন পরিষেবা স্থানান্তরের কাজ চলছে। একই সঙ্গে চলমান রয়েছে দরপত্র প্রক্রিয়া। ঢাকা জোনের ৭টি আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৩৪ দশমিক ২ কিলোমিটার যথাযথ মান ও প্রশস্তায় উন্নীতে ব্যয় হবে ৫৯১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সিলেট জোনের ৬টি আঞ্চলিক সড়কের ১৪৮ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মানোন্নয়নে ব্যয় হবে ৫৬৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। বরিশাল জোনের ৬টি সড়কের ১৩০ দশমিক ১২ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় হবে ৫২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ময়মনসিংহ জোনের চার জেলার ১৫১ দশমিক ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করতে ব্যয় হবে ৬০৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। কুমিল্লা জোনের চার জেলার ১৬৮ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার সড়ক ২৪ ফুট প্রশস্ত করতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। খুলনা জোনের চার জেলার ১২৬ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় হবে ৫৯৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। রংপুর জোনের চারটি জেলার ১০৫ কিলোমিটার রাস্তার জন্য ব্যয় হবে ৫৯৮ কোটি টাকা। রাজশাহী জোনের দুটি জেলার ৭৪ কিলোমিটার রাস্তার মানোন্নয়নে ৪৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং গোপালগঞ্জ জোনের দুটি জেলার ৫১ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার রাস্তায় ব্যয় হবে ৩৯৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এদিকে এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, সড়কগুলো প্রশস্ত করার কাজ শেষ হলে দেশের আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক আরো বেশি শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কগুলো যেহেতু দেশের জেলা সদর ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের সংযোগ ঘটিয়েছে, তাই প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলেও দেশের অর্থনীতির গতি বৃদ্ধিতেও সড়কগুলো ভূমিকা রাখবে। এর বাইরে সড়ক দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোয় এখন পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগের রাস্তা দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রগতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য দেশের সব মহাসড়ক সমানভাবে ২৪ ফুটে প্রশস্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার মাধ্যমে দেশের ৪২টি আঞ্চলিক মহাসড়ককে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলোকে জাতীয় মহাসড়ক থেকে জেলা শহর কিংবা প্রধান নদীবন্দর ও স্থলবন্দরকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক বৈষম্যও দূর করা সম্ভব হবে।


