প্রাণের চরমোনাই

প্রাণের চরমোনাই

প্রাণের চরমোনাই

আ মি নু ল ই স লা ম কা সে মী

চরমোনাই এখন প্রাণের। হৃদয়ে এখন চরমোনাই। লক্ষ লক্ষ ঈমানদার -জনতার মিলনমেলা বসেছে বরিশালের পূর্ব কোণে কীর্তনখোলা নদীর তীরে। পুরো বাংলাদেশের জেলা- উপজেলা এমনকি দেশের বাইরে থেকেও জমা হয়েছেন এই ময়দানে। পুরো চরমোনাই এবং আশে- পাশের এলাকা এখন জনসমুদ্র। পাঁচটি ময়দানের সব কটি ভরে গেছে মাহফিল শুরু হওয়ার অনেক আগেই। ময়দান ছাড়া রাস্তা- ঘাট বন- জঙ্গলে মানুষ স্থান করে নিয়েছে। যে যেখানে পারছে, সেখানে স্থান নিচ্ছেন।

ভালবাসার চরমোনাই। পুরো দেশের তাওহিদী জনতার প্রিয় জায়গা। গোটা দেশের মানুষ এখন চরমোনাইকে ভালবাসে। চরমোনাই-এর প্রতি অন্য ধরনের এক টান। ফাল্গুন মাস এবং অগ্রহায়ন এলে সে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। মানুষ দলে দলে জমা হয়ে থাকে সেখানে। কাউকে এখন আর তাশকীল করা লাগেনা। নিজ উদ্যোগে এখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে চলেছে।

চরমোনাইতে গেলে সেখানে কর্তৃপক্ষের কোন আপ্যায়নের ব্যবস্হা থাকেনা। বা কেউ কাউকে সেখানে নেওয়ার জন্য কোন ভাড়া খরচ করতে হয় না। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে, নিজের মাল ব্যয় করেই সেখানে যাচ্ছে। তারপরেও সেখানে লাখো লাখো তাওহিদী জনতার উপচেপড়া ভিড়। জনস্রোত চলে চরমোনাই এর দিকে। এক আজব দৃশ্য যেন সেখানে। কেউ না দেখলে মনে হয় বিস্বাস করবে না।

চরমোনাই এর খানকার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ ইসহাক রহঃ। যিনি উজানীর ক্বারী ইব্রাহীম রহঃ এর খলিফা ছিলেন। আবার উজানীর ক্বারী ইব্রাহীম রহঃ খলিফা ছিলেন , ফকীহুন নফস, কুতুবে রাব্বানী রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহঃ এর। আবার তিনি ছিলেন হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী রহঃ এর খলিফা।

মোটকথা দেওবন্দী আকাবিরদের পীরের সিলসিলার সাথে মিলিত হয়েছে এই খানকার নেছবত। সেসব জগদ্বিখ্যাত বুজুর্গদের সাথেই চরমোনাই ওয়ালাদের খানকার সম্পর্ক।

সৈয়দ ইসহাক রহ, এর প্রতিষ্ঠিত এই খানকার সম্প্রসারণ করেন সৈয়দ ফজলুল করীম রহ,। আর বর্তমানে রয়েছেন, তাদের দুই উত্তরসুরী যথাক্রমে সৈয়দ রেজাউল করীম দামাতবারাকাতুহুম এবং সৈয়দ ফয়জুল করীম দামাত বারাকাতুহুম। অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

চরমোনাই ওয়ালাদের বড় গুণ হল, তারা কখনো খানকার মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের আনাচে- কানাচে তারা মানুষের কাছে তারা দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যান। বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সারাটা বছর তারা মানুষের পাশে। অত্যন্ত দরদ নিয়ে তারা এগিয়ে যায়। মানুষের সর্বাঙ্গীন বিষয়গুলো নিয়ে তারা ভাবে। অনেক ফিকির করে।

আর এ কারণে এখন চরমোনাই এর খানকা এবং চরমোনাইয়ের সংগঠন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। দেশ জুড়ে এখন চরমোনাইয়ের জনপ্রিয়তা। চরমোনাই ওয়ালাদের খেদমতের কারণে তারা এই ভালবাসা অর্জন করেছে। যে জেলাতে যাবেন,যে উপজেলা , ইউনিয়ন, পৌরসভা, যেখানে আপনি যাবেন, সেখানে দেখবেন চরমোনাইয়ের ভক্ত- সমর্থক- কর্মী। একদম অজপাড়াগাঁ থেকে নিয়ে শহরে- বন্দরে ছড়িয়ে আছে।

খবরে হেড লাইনে থাকে এখন চরমোনাই এর খবর। জাতীয় সংবাদ পত্র, টিভি চ্যানেল, এমনকি তুখোড় সংবাদকর্মীদের মুখে মুখে এখন চরমোনাইয়ের নিউজ। টিভির ট্ক শোতে ভেসে ওঠে চরমোনাই। আরো মজার ব্যাপার হল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেন একচেটিয়া ভাবে নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে। ফেসবুকটা খুললেই চরমোনাই এর খবর।

আসলে মানুষের প্রাণ খোলা ভালবাসা এখন চরমোনাই এর প্রতি। মন থেকে তারা ভালবাসে। এ যেন প্রাণের এক খানকা। হৃদয়ের এক সংগঠন। মানুষের ভালবাসার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে দুআ করি, আল্লাহ তায়ালা কবুল করে নিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *